বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

চোখের জল ফুরিয়ে গেলে ঈদ কেমন হয়?


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| শাব্বির আহমাদ খান ||

“তোমরা তাদেরকে (অসহায়-গরিবকে) তোমাদের ঈদের আনন্দে শরিক করো।” এই ছিল প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর শিক্ষা। ঈদের মূল চেতনায় ছিল সাম্য, সহানুভূতি ও সামাজিক সুবিচার। অথচ আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত এই চেতনার বিপরীত চিত্রই দৃশ্যমান।

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের পাশে দেখা যায় এক শিশুকে—নাম আল আমীন। বয়স এগারো। জীবনযুদ্ধে সে একা। বাবা মারা গেছেন সড়ক দুর্ঘটনায়। মা বিয়ের পর তাকে আর ফিরিয়ে নেননি। এখন ফুটপাতই তার ঠিকানা। ছেঁড়া গেঞ্জি, মলিন প্যান্ট—পায়ে কিছু নেই। হাতের ঝুড়িতে কুড়ানো পানির বোতল। জিজ্ঞেস করতেই বলে,
— “দিনে বোতল বেইচ্যা তিরিশ টাকা পাই। এক প্লেট ভাত হয়, যদি হোটেলের মালিক খাইতে দেয়।”
জিজ্ঞেস করি, “ঈদের দিন কেমন কাটে?”
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,
— “সবার ঘরে ঈদ, আমার নাই... শুধু রেলগেটের ঝনঝন শব্দ।”

কিন্তু ঈদ তো ছিল সবার জন্য। রাসুল ﷺ যখন মদিনায় হিজরত করলেন, তখন সেখানকার লোকেরা দুটি খেলাধুলার দিন উদযাপন করত। তখন তিনি বলেন,
“আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দুই দিনের পরিবর্তে আরও উত্তম দুটি দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।” (আবু দাউদ)

এ দুটি ঈদ কেবল নামাজ আর গোশতের নয়, বরং গরিব-অসহায়কে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধে জড়িয়ে নেওয়ার মহান উপলক্ষ।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তোমরা এতিমদের প্রতি দয়ার্দ্র হও। তাদের মাথায় হাত বুলাও এবং তাদের খাওয়াও।”
– (তিরমিযি)

আজ যারা ফুটপাতে ঈদের দিন কাঁদে, তাদের কি আমরা ভুলে যাচ্ছি না?

ঈদ মানে নিজের সন্তানকে জামা পরানো আর অন্যের সন্তানের দিকে তাকিয়ে না দেখা—এটা কি ইসলাম চায়?

ইসলাম আমাদেরকে দায়িত্ববান সমাজ গড়ার শিক্ষা দেয়। কুরবানির ঈদ আমাদের শেখায় ত্যাগ—নিজের প্রিয় জিনিস আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেওয়ার শিক্ষা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তোমরা কখনো পূর্ণভাবে নেকি লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাহে ব্যয় করো।” – (সূরা আলে ইমরান: ৯২)

সুতরাং, ঈদের দিনে যদি আমরা আল আমীনদের মতো অসহায়দের পাশে না দাঁড়াই, তবে কিসের ঈদ? কিসের তাকওয়া?

হয়তো কারো পুরনো জামা, কারো একটি খাবারের প্যাকেট, কারো একটু স্নেহ—একটি শিশুর চোখে আনন্দের জল এনে দিতে পারে।

রাষ্ট্রের উচিত এমন শিশুদের তালিকা করে ঈদের সময় খাদ্য, জামা ও ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া। সমাজের বিত্তবানদের উচিত ঈদের আগে একবার ভাবা—আল আমীনদের মুখে হাসি ফোটানো কি আমাদের দায়িত্ব নয়?

যেদিন আমরা সবাই মিলে রাস্তার শিশুকে একটুখানি ভালোবাসা দেব, সেদিনই ঈদ হবে সত্যিকারের ঈদ।
কারণ ঈদ শুধু গরুর গোশত আর আতরের গন্ধ নয়, ঈদ হলো মানবতা ও মমতার জয়গান।

লেখক: শিক্ষার্থী, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম, খিলগাঁও

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ