|| শরিফ হাসানাত ||
আমার বাবা যখন অনুভব করলেন যে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমে যাচ্ছে, তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কুরআন তিলাওয়াত করতে কষ্ট হতো। কাছের কিংবা দূরের মানুষকেও স্পষ্টভাবে চিনতে পারতেন না। সবকিছুই ঝাপসা লাগত।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ভারতের মাদ্রাজে নেওয়া হলো। কয়েক মাস চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানালেন, চোখের স্নায়ু শুকিয়ে যাচ্ছে। ছয় মাস অন্তর একটি করে ইনজেকশন নিতে হবে। মোট খরচ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকারও বেশি। তবুও সুস্থ হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বাবার বয়স তখন প্রায় পঁচাত্তর বছর। তিনি গ্রামের একজন সম্মানিত মুরব্বি ও সমাজসেবক। সব কথা শুনে তিনি শান্তভাবে বললেন,
‘চিকিৎসা তো অনেক হলো। এখন আমি কাবাঘর দেখতে চাই। যতদিন আল্লাহ দেখান, তাঁর ঘর দেখেই কাটাতে চাই।’
তখন ছিল হজের মৌসুম। তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে হজে চলে গেলেন। সেখানে নিয়মিত জমজম পান করতে লাগলেন এবং চোখে লাগাতে থাকলেন। আমরা প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ! তিনি নিয়মিত জমজম ব্যবহার করেছিলেন। রাতে একা চলাফেরা করতে পারতেন। কিছুটা সমস্যা থাকলেও নিজের কাজ নিজেই করতে সক্ষম ছিলেন।
আমাদের বিশ্বাস, এটি একমাত্র আল্লাহ তাআলার দয়া এবং জমজমের বরকতেরই ফল।
আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতের কিছু বাস্তব নিদর্শন মাত্র। শিফা দানকারী একমাত্র আল্লাহ। তিনি যাকে চান, যেভাবে চান, যে মাধ্যমেই চান সুস্থতা দান করেন।
তাই বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সেই চিরসত্য বাণী আজও হৃদয়ে অনুরণিত হয়—
«زَمْزَمُ طَعَامُ طُعْمٍ وَشِفَاءُ سُقْمٍ»
‘জমজমের পানিতে রয়েছে আহারকারীর জন্য খাদ্য এবং রোগীর জন্য আরোগ্য।’
এসএইচ/