বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

হলো না আরবিতেও

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

deal2ফারুক ফেরদৌস : কিছুদিন আগে ফ্রান্সের সেন্ট ট্রপেজ শহরে রাস্তার পাশে মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে ফরাসি পুলিশের ধমক খেয়েছিলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। মাঠের দাপুটে স্ট্রাইকারকে লাজুক মুখে ধমক খেয়ে মাথা নিচু করে স্থান ত্যাগ করতে হয়েছিলো। পেছন থেকে পুরো ঘটনা ক্যামেরাবন্দী করে ফেলেছিলেন ওয়েনিমি গ্রেস নামের এক তরুণী। স্টারের ভাবমূর্তির বারটা বেজেছে।

বদভ্যাসের পাপ বাপকেও ছাড়ে না। এই বদভ্যাসটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের নামি দামি শহরগুলোও এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। কিছুদিন আগে জার্মানির হামবুর্গ আর যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে মূত্রত্যাগ ঠেকাতে রাস্তার পাশে ‘আল্ট্রা এভার ড্রাই’ নামের এক ধরনের রঙের প্রলেপ লাগানো হয়েছে। দেয়ালে মূত্রত্যাগ করতে গেলেই মূত্র দেয়াল থেকে মূত্রত্যাগকারীর দিকেই ছিটকে আসবে। ‘আল্ট্রা এভার ড্রাই’ বাতাসে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। মূত্র বা যে কোনো তরল এর উপর পড়লেই উল্টোদিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।

এর আগে শহরদুটিতে অসংখ্য নীতিবাক্য ও নিষেধাজ্ঞা লিখে সমস্যা সমাধান করা যায়নি। ভারতে প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের বদভ্যাস ঠেকাতে হায়দ্রাবাদ ও দিল্লির পুলিশ চালু করেছিলো লজ্জার মালা। প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করে নজরে পড়লেই ফুলের মালা পরিয়ে দেবে ট্রাফিক পুলিশ। ফুলের মালা পরিয়ে লজ্জা দেয়ার পদ্ধতিটি অভিনব নিঃসন্দেহে। কিন্তু জরিমানা করে, শাস্তি দিয়ে যেখানে এটা ঠেকানো যাচ্ছে না, ফুলের মালা আর কতটুকু কাজ করবে। বিরক্ত হয়ে একবার দিল্লির হাইকোর্ট মন্তব্য করেছিলো পুরুষদের প্যান্টের জিপারে তালা লাগিয়ে চাবি বাড়িতে রেখে আসা উচিত। এছ্ড়াা এই সমস্যার আর সমাধান নেই।

deal

সারা পৃথিবীর অবস্থা যখন এই, বাঙালিরা কি পিছিয়ে থাকতে পারে! এই ক্ষেত্রে ভারতীয়দের পেছনে ফেলতে না পারলেও তাদের পারফর্মেন্স যে মোটেও খারাপ নয় সেটা ঢাকার রাস্তায় একটু ঘুরে ফিরে দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিরোধের অভিনব কৌশল উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকেনি। ধর্মমন্ত্রীর বুদ্ধিতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন রাস্তায় মূত্রত্যাগের নিষেধাজ্ঞা আরবিতে লিখে মূত্রত্যাগ ঠেকাতে চেয়েছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে মূত্রত্যাগ বন্ধের কিছুটা প্রতারণামূলক এই চেষ্টাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও সিটি কর্পোরেশন গ্রাহ্য করেনি। ঢাকার রাস্তায় বড় লাল আরবি হরফের নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই চোখে পড়ে। প্রথম প্রথম পদ্ধতিটি কিছুটা ফলও দিয়েছিলো। কিন্তু মাস তিনেক না পেরোতেই যেই সেই অবস্থা। লেখাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ায় প্রায় সবাই এর মধ্যে জেনে ফেলেছে এই লেখাটি কোরআন হাদিসের কোন বাণী নয়। সাধারণ নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞার সামনেই এখন জিপার খুলছে মানুষ।

রাস্তার পাশে একটু জায়গা পেলেই, একটু একলা দেখলেই অনেকের জিপার খুলে হালকা হওয়ার কথা মনে পড়ে। এই বিশ্রী সমস্যা

[caption id="attachment_1035" align="alignright" width="201"]mahfuzul haq মসজিদের টয়লেটগুলো জনসাধারণের জন্য সর্বক্ষণ উন্মুক্ত রাখার পরামর্শ দেন জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক।[/caption]

টির পেছনে বদভ্যাস ও সদিচ্ছার অভাব যেমন দায়ী, ঢাকার রাস্তায় পাবলিক টয়লেটের সংকটও একটা বড় কারণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকার দেড় কোটি বাসিন্দার জন্য পাবলিক টয়লেট রয়েছে মাত্র ৬৭ টি। ২০১১ সনে পরিচালিত একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে এগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি পাবলিক টয়লেট পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী। কাজে কর্মে বের হওয়া মানুষ যে নিদারুণ সমস্যায় পড়ে তা তো সত্যিই। সমস্যার গোঁড়ায় হাত না দিলে উপরে ছিপি এঁটে কাজ হয় না। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হলো পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা বাড়ানো। যেগুলো আছে সেগুলোকে ব্যবহার উপযোগী করা।

 

ঢাকার মসজিদগুলোর সাথে সাধারণত পাবলিক টয়লেট থাকে। এই টয়লেটগুলো জনসাধারণের জন্য সর্বক্ষণ উন্মুক্ত রেখে এগুলোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক। সিটি কর্পোরেশন পরামর্শটি ভেবে দেখতে পারে। তবে এও সত্যি যে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হলো বদভ্যাস। পাশে পাবলিক টয়লেট থাকলেও এরা রাস্তায়ই দাঁড়াবে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো যেমন হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই নিম্নরুচির মানুষগুলোকে প্রতারণামূলক ধর্মের ভাষা দেখানোর ছ্যাঁচড়া পদ্ধতিতে না গিয়ে কড়াভাবে আইনানুগ শাস্তি ও জরিমানার বিধান কার্যকর করা দরকার। যত্রতত্র শাস্তি, জারিমানার মুখে পড়লে এদের কিছুটা বোধোদয় হতে পারে।

 

আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম / আরআর


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ