সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


কাশ্মিরে '৩৭০ ধারা' বাতিলের আশঙ্কা, ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

রকিব মুহাম্মদ: ভারত শাসিত কাশ্মিরে কেন্দ্রীয় সরকার হঠাৎ করে অতিরিক্ত দশ হাজার সেনা মোতায়েন শুরু করার পর গোটা উপত্যকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সরকার যদিও একে রুটিন সেনা মোতায়েন বলেই দাবি করছে। তবে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই ধারণা করছেন ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের চেষ্টা হলে কাশ্মীর উপত্যকায় যে অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে তার মোকাবিলাতেই সেখানে বাড়তি সেনা নিয়ে আসা হচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি বরাবরই কঠোর কাশ্মীর-নীতির পক্ষে। সেই নীতি কেমন, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরপরই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্টভাবেই জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক রক্ষাকবচ ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং ৩৫(ক) ধারা বাতিল করতে চান। এটি বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

৩৭০ ও ৩৫(ক) ধারা বাতিল করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতিমধ্যেই কাশ্মিরে মেহবুবা মুফতি বা শাহ ফয়সলের মতো রাজনীতিবিদরা এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। কাশ্মির থেকে দলে দলে পর্যটকরা ফিরে আসছেন বলেও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র (পিডিপি) নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে উপত্যকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো অভাব নেই। রাজনৈতিক সমস্যা সেনাবাহিনী দিয়ে সমাধান করা যাবে না।

তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ৩৫-এ ধারা নিয়ে গরমিল করা হলে; তা রাজ্যে আগুন জ্বালানোর মতো হবে।

হুররিয়াত কনফারেন্স চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ উমর ফারুক বলেছেন, 'কাশ্মীর অতিরিক্ত সামরিকায়নে ভারাক্রান্ত। এ অঞ্চলকে অসামরিকীকরণের বদলে কেন্দ্র আরও সেনা মোতায়েন করছে। কেন্দ্র হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল, আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।'

জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্টের প্রধান ও সাবেক আমলা শাহ ফয়সল যেমন বলছিলেন, "এই বাড়তি সেনা মোতায়েনের নির্দেশে গোটা কাশ্মির কিন্তু উদ্বিগ্ন! একেবারে নজিরবিহীন, খুব সাংঘাতিক খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে ভেবে তারা শঙ্কিত। সরকারের এখন উচিত মানুষকে সব কিছু খোলাসা করে বলা, পরিষ্কার করে জানানো যে ৩৭০ ধারা বা আর্টিকল ৩৫-এ বিলোপ ঘটতে যাচ্ছে কি না।”

à¦