বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

যেসব কারণে মশা আপনাকে বেশি বেশি কামড়ায়!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট, যেখানেই যান মশা আপনার পিছু ছাড়ে না। ভাবছেন! অন্যদের চেয়ে মশা আপনাকে কামড়াতে বেশি পছন্দ করে! হ্যাঁ আপনার ধারণা অনেকটাই সত্যি! কিছু কিছু মানুষকে আসলেই মশা বেশি বেশি কামড়ায়। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। গবেষকেরাও পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে একই কথা বলছেন। এর রয়েছে যথেষ্ট কারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। জেনে নিন এমন কয়েকটি কারণ :

ত্বকের উপাদান : মশা কামড়ানোর পেছনে থাকে মানুষের ত্বকের উপাদানসমূহ বা কম্পাউন্ডসের উপস্থিতি এবং শরীরের গন্ধ। ভেক্টর বায়োলজিস্ট বার্ট ক্যানলস মশা ও মশা কামড়ানোর কারণের উপরে তার গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, মানুষ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণের সাথে শরীরে ব্যবহৃত বেশ কিছু কেমিক্যাল উপাদানও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে। যা মানব শরীরে এক ধরনের ‘ওডর প্লাম’ তৈরি করে। এই ওডর (গন্ধ) মশা ১০০ ফিট দূর থেকেও শনাক্ত করতে পারে।

নির্দিষ্ট মানুষকে কামড়ায় বেশি মশা : মশার প্রজাতি ও মানুষের শরীরের ত্বক, গন্ধের উপর নির্ভর করে মশা নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়ে থাকে। যেমন- এশিয়ান টাইগার মসকুইটো ল্যাকটিক অ্যাসিডের উপস্থিতি বেশি আছে এমন মানুষের ত্বকের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। অন্যদিকে আফ্রিকান ম্যালেরিয়া মসকুইটো ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ত্বকের দিকে তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মশার প্রজাতি এবং মানুষের শরীরের নিজস্ব ঘ্রাণ ও তার নিঃশ্বাসের সাথে কী ধরনের কেমিক্যাল মিশছে- এইসকল বিষয়ের উপর নির্ভর করে মশারা নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। এর সাথে জেনেটিক্যাল গঠন, স্বাস্থ্যের অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, ত্বকের আর্দ্রতা, মাইক্রোফ্লোরাসহ প্রভৃতি বিষয়গুলোও সংযুক্ত থাকে।

শরীর থেকে নির্গত ব্যাকটেরিয়ার গন্ধে আকৃষ্ট : আমাদের লোমকূপ থেকে যে সকল উপাদান নির্গত হয়, তা ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে বিক্রিয়া ঘটায়, যা মশাকে আকৃষ্ট করার মতো ঘ্রাণ তৈরি করে। সেক্ষেত্রে বলা যায়, আমাদের প্রতি বা আমাদের ত্বকের প্রতি নয়, মশারা আমাদের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

ভ্রান্ত ধারণা : অনেকের মাঝেই ভ্রান্ত ধারণা থাকে যে, রক্ত মিষ্টি হওয়ার দরুন নির্দিষ্ট ব্যাক্তিকে মশা বেশি কামড়ায়। কিংবা রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর করে মশা কম-বেশি আকর্ষিত হয়। অথচ পরীক্ষা করে কিংবা গবেষণা করে এ ধরনের তথ্যের নির্ভরযোগ্য সত্যতা পাওয়া যায়নি।

গর্ভবতী নারী এবং ভারী শরীরের মানুষ: যাদের শরীর থেকে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যেমন গর্ভবতী নারী এবং ভারী শরীরের মানুষ- তাদেরকে মশা পছন্দ করে বেশি। একটি গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভবতী নারীদেরকে অন্যদের চাইতে দ্বিগুণ পরিমাণে আক্রমণ করে ম্যালেরিয়াবাহী মশা। এছাড়া নারীদেরকে মশারা বেশি আক্রমণ করে। আর নারীদের শরীরে মশার কামড়টা বেশি বড় এবং যন্ত্রণাদায়ক হয়।

মশার কামড় থেকে বাঁচার ‍উপায় : যদি আপনার প্রতি মশা তুলনামূলক বেশি আকর্ষিত হয়ে থাকে তবে নিজেকে সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করতে হবে। সাথে লেমন অয়েলে ব্যবহার করতে হবে ও লেবুর রস মিশ্রিত পানি পান করতে হবে। সকল প্রজাতির মশাই লেবুর গন্ধে দূরে থাকে থাকে।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ