আওয়ার ইসলাম: বুয়েট ছাত্রলীগের টর্চার সেল থেকে আবরার ফাহাদ ফিরতে না পারলেও ভাগ্যের জোরে বেঁচে ফিরেছেন অনেকেই। তবে টর্চার সেলের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি যেনো কিছুতেই মুছে ফেলতে পারেননি তারা। গা শিউরে ওঠা সেই সব ঘটনার কথা আত্মীয়-স্বজন-পরিবার-পরিজনকেও বলতে ভয় পেয়েছেন তারা। এমনই একজন মো. এনামুল হক। বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি আবরার হত্যার পর তিনি ফেসবুকে তার নিজের ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। এনামুল লিখেছেন, পরীক্ষার হল থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর টর্চার সেলে বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্যাতন চলেছে। তিনি ওই নির্যাতনের ছবিও প্রকাশ করেছেন।
তার এই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
পাঠকদের জন্য মো. এনামুল হকের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-
‘এগুলো আমারই ছবি, ছয় বছর আগের, আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি।
বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নাম্বার রুমে নির্যাতন করে।
আমি কারও সাথে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সাথে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধুমাত্র ফেইসবুকে সরকারি নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মতো একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সাথে এমন আচরণ করে।
এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার (’০৯) ও কাজল (’০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে!
বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১১ টা ৩০!! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ’১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে।
এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি।
সারাজীবন একটি মাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম- বুয়েটে পড়বো। বুয়েটের ছাত্রদে