[সম্প্রতি বিশিষ্ট লেখক শরীফ মুহাম্মদের একটি দীর্ঘ আত্মজৈবনিক সাক্ষাৎকার নেন জহির উদ্দিন বাবর। সেই সাক্ষাৎকারটির অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে লেখা ও লেখকের কথা নিয়ে প্রকাশিত লেখকপত্রের তৃতীয় সংখ্যায়। আওয়ার ইসলামে পুরো সাক্ষাৎকারটি পর্যায়ক্রমে গদ্য আকারে প্রকাশিত হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো চতুর্থ পর্ব]
দাওরায়ে হাদিস ফারেগ হয়েছি সম্ভবত ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর পরপর আমি মতিঝিল (ওয়াপদা) মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হই। মতিঝিলে ঢোকার প্রেক্ষাপটটা হলো, আমার ফারেগ হওয়ার পনের দিন আগে আম্মা ইন্তেকাল করেন। এটা আমার জীবনের অনেক লক্ষ্য বা গতিপ্রবাহকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। রমজানের আগেই আমার পাসপোর্ট করা ছিল। আম্মা জানতেন, আব্বা জানতেন আমি দেওবন্দ বা পাকিস্তান পড়তে যাবো। বা আরব বিশ্বের কোথাও। বিষয়টা যে খুব পরিকল্পিত ছিল এমন না। তবে আমি চেষ্টাগুলো করবো এমন একটা পরিকল্পনা ছিল। আমার বয়স তখন ২১ বছর। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বয়স ছিল, ইচ্ছাও ছিল। আম্মা যখন মারা গেলেন, আমি ভাইবোনদের সবার বড়, আমার পরে ১১ জন ভাইবোন। এর মধ্যে চারজন থেকে পাঁচজন একদম ছোট। আব্বার ব্যবসার অবস্থা তখন খুব খারাপ।
ওই সময় আমার পাসপোর্টটার দিকে শুধু তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু আমার কাছে মনে হতো এই ছোট ভাইবোনদের রেখে এক-দুই বছরের জন্য দূরে কোথাও যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আব্বা এটা নিয়ে আমার সঙ্গে অনেক রাগারাগিও করেছেন। আমি কেন পড়তে বিদেশে যাইনি এটা নিয়ে মন খারাপ করেছেন। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত তখনই ঘুরিয়ে ফেললাম, আমাকে কিছু একটা করতে হবে আর যেকোনো মূল্যে পরিবারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকতে হবে।
আমি মতিঝিল মাদরাসায় শিক্ষক ছিলাম ঠিকই, কিন্তু বৃহস্পতি-শুক্রবারটা আমার ময়মনসিংহের জন্য বাঁধা ছিল। অনেক সময় শনিবারটাও। মাদরাসায় আসতে দেরিও করতাম। আমি কিছুই করতে পারিনি হয়তো, কিন্তু বড় হওয়া পর্যন্ত ভাইবোনের সঙ্গে সঙ্গে থাকা, এই অস্থিরতাটা আমি আম্মা মারা যাওয়ার পাঁচ-সাত বছর পর্যন্ত মন থেকে দূর করতে পারিনি। ফলে আমি অন্য কোথাও যেতেও পারিনি।
মতিঝিল মাদরাসায় নিয়োগের ব্যাপারটা ছিল এমন, সেখানে আমার একজন আত্মীয় ছিলেন আগে থেকে। আর ওই মাদরাসার যিনি মুহতামিম ছিলেন, মারা গেছেন, মাওলানা ইসহাক সাহেব; ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বাড়ি; খুব বুজুর্গ মানুষ ছিলেন। মকতব থেকে দাওরা পর্à