মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম আল-আকসায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা সৌদি আরবের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইয়েমেনে তীব্র সংঘাত: ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৬ হুথি যোদ্ধা হতাহত, দাবি সেনাবাহিনীর বইমেলায় শাপলা কর্নার পরিদর্শন করলেন ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম এমপি মাওলানা নুরুল ইসলাম খাঁনকে দেখতে হাসপাতালে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রকে পাওয়া গেল চাঁদপুরে, নেপথ্যে যে কারণ আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় দুই দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী মাহফিল শুরু ১৩ নভেম্বর ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় উত্তরায় মুহতামিম সম্মেলন

নওমুসলিম মুহাম্মদ খালিদের ঈমানজাগানিয়া স্মৃতিগদ্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ খালিদ হুসাইন ।। 

এক রাতের কথা। স্পেনের একটি শহর ব্যালিনেসিয়ায় একটি ডিস্কো ক্লাবে আমি মদ পান করছিলাম। সম্পূর্ণ একা। মদ পান করছিলাম আর চারদিকে চিন্তিত চোখে তাকাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম আমার নিজের জীবনের কথা। ভাবতে ভাবতে হঠাৎই মনে হলো আমার এবং আমার চারপাশে যারা আছেন এ মদ্যশালায় তাদের জীবন-ই ভীষণ বিরস ও শূণ্য। আমি বসে বসে আমার জীবনলক্ষ্যের কথা ভাবছিলাম।

কথা কি, মাঝে মধ্যেই আমি ভাবতাম আমার জীবনের নানা ধোঁকা এবং মানসিক নানা অস্থিরতার কথা। ধোঁকার যন্ত্রণা ও অস্থিরতার পেষণ থেকে বাঁচবার জন্যে পান করতাম এ্যালকোহল এবং মদ। আসলে আমি আমাকে বাঁচাবার জন্যে স্মরণ নিতাম নেশার। এভাবেই আমি আমার কষ্টার্জিত অর্থ পানির মতো ঢেলে দিতাম বিভিন্ন ডিস্কো এবং নাইট ক্লাবে।

সত্যি কথা কি, শিশুকাল থেকেই আমরা যেসব কথা শুনে শুনে বড় হয়েছি তা হলো এ পৃথিবী একটি দুর্ঘটনার ফসিল। কথাটি শুনতাম। কিন্তু আমার বিশ্বাস হতো না। বরাবরই আমার মনে হতো নিশ্চয় এমন একজন সত্তা আছেন যিনি আমাদের চাইতে অতি উঁচু এবং মহানতর।

আমার অনুভব হতে থাকে আমাকে সেই পথটি খুঁজে বের করতে হবে যা কী-না প্রকৃত মালিক ও সৃষ্টিকর্তার পথ। আমাকে সেই মহান প্রভুর পথ খুঁজে বের করতে হবে যিনি এ জগত সংসারের সমুদয় বস্তু যথাক্রমে সৃষ্টি করেছেন। এ মানব ও মানবতার সৃজন যার নির্দেশে। আমাদের ভেতরকার বুদ্ধি ও মস্তিস্ক যার নির্দেশের ফসল।

আমার মা বাবা আমাকে যে ধর্ম শিখিয়েছিলেন সেখানে আমার আত্মিক প্রশ্নাদির কোনো জবাব ছিলো না। আমি ভেতর থেকে এমন কোনো বস্তুকে জগতের ভিত্তিরূপ মানতে পারছিলাম-না যাতে রয়েছে পারস্পরিক প্রচুর দ্ব›দ্ব ও বৈপরীত্য। ওইসব বৈপরীত্যের কারণেই মানবতার ইতিহাসে ও আসমানি গ্রন্থাবলিতে এসেছে নানা পরিবর্তন। আমি মানবরচিত কোনো বস্তুকেই এ জগত সংসারের বুনিয়াদ মেনে নিতে পারছিলাম না। বিশেষ করে এমন বস্তু যাতে ভুলের সমূহ আশঙ্কা আছে।

আল্লাহকে এবাদত করার সঙ্গে সঙ্গে হাতের তৈরি নানা ছবির প্রতিও এবাদত প্রকাশ আমার কাছে মনে হতো সম্পূর্ণ যুক্তিহীন। আমি আমার আত্মিক শূণ্যতা পূরণ করবার জন্যে যা কিছুর আশ্রয় নিতাম তাতে কোনো লাভ হতো না। বরং মনে হতো আমার শূণ্য