মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


ইজতেমা: দীনি মজলিসের উপহার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

তানভীর সিরাজ ।।

বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাধক হজরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভি (১৮৮৫-১৯৪৪ খ্রি.) দাওয়াতে তাবলিগ জামাতের পুনর্জাগরণ করেন। হজের পর বাংলাদেশের এ ইজতেমাকে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বলে মনে করা হয়।

প্রথম ইজতেমা ১৯৪১ সালে দিল্লির নিজামউদ্দীন মসজিদের ছোট এলাকা মেওয়াতের নুহ মাদরাসায় আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৪৬ সালে ঢাকার রমনা পার্কসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে তৎকালীন হাজি ক্যাম্পে ইজতেমা হয়, ১৯৫৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তখন এটা কেবল ইজতেমা হিসেবে পরিচিত ছিল।

প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ সালে ইজতেমা টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়। ওই বছর স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেওয়ায় ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। (দৈনিক প্রথম আলো)

প্রতিটি মেলামজলিসে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়। এর মাঝে উত্তম অনুত্তমের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচ্য। এই ইজতিমা এমন একটি মজলিস যেখানে গেলে মানুষের ঈমান আমল, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ও সাংসারিক জীবন ইত্যাদির ক্ষেত্রে শরিয়তকে জীবন চলার পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করাটা শিখা যায়। মেজায তৈরী হয় তাকে মেনে নেয়ার। ইজতিমা থেকে যা নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরতে পারি তার কিছু এই-

ইকরাম: এই ইজতিমায় আসার দ্বারা অন্যকে ইকরাম বা সম্মান করার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে উঠে। বিশেষ করে যাদের মাধ্যমে আমরা দীনের পথ পেয়েছি এবং শরিয়ত অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারছি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন মানবিক দায়িত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, 'আলিম হও, অথবা ইলম অন্বেষণকারী হও, অথবা ইলমের কথা শ্রবণকারী হও, কিংবা উলামা প্রেমিক হও, আর পঞ্চম প্রকার হও না তুমি ধ্বংস হবে।'

মাসিক আলকাউসারের এক জায়গায় এসেছে 'আলিমগণ তো তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন, সাধারণ মুসলমানদেরকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাদের দায়িত্ব কী? তাদের দায়িত্ব হচ্ছে, উলমায়ে কেরামের মেহনত ও কল্যাণকামিতার মূল্যায়ন করা এবং তাদের রাহনুমায়ী অনুসারে হককে অবলম্বন করা।'

আশেকে রাসুল: ইজতিমায় এসে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ অনুযায়ী চলা সহজ হয়ে যায়। কারণ সেখানে বেশি থেকে বেশি সুন্নত ও তার ফযিলত সম্পর্কে আলোচনা à