মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


লিভার কিডনী ইত্যাদি ট্রান্সপ্লান্ট করার বিধান!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বেই এর ব্যবহার করা হচ্ছে। কারো লিভার, কিডনী ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে অন্য কারো লিভার, কিডনী ইত্যাদি এনে ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।

আমার প্রশ্ন হল, এভাবে অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্ট করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ হবে কি না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর:  বর্তমান সময়ে অঙ্গ ট্রান্সপ্লান্টেশনের একাধিক সূরত রয়েছে। যেমন- ১. মানুষের অঙ্গ ব্যতীত জড় পদার্থ যেমন লোহা পিতলের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা। ২. মানুষের অঙ্গ ব্যতীত হালাল প্রাণী যেমন বকরী ইত্যাদির অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা। ৩. মানুষের অঙ্গের বদলে কোন হারাম প্রাণী যেমন কুকুর, শুকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা।

৪. মানুষের এক অঙ্গ কর্তন করে তার অন্য অঙ্গে প্রতিস্থাপন করা। ৫. কোন সুস্থ্য মানুষের কোন অঙ্গ কর্তন করে আরেক অসুস্থ্য ব্যক্তির শরীরে প্রতিস্থাপন করা। উপরোক্ত ৫ সূরতের মাঝে ১ম, ২য় এবং ৪র্থ সূরত জায়েজ।

তৃতীয় সূরতের ক্ষেত্রে বিবরণ হল, যদি অনোন্যাপায় অবস্থায় হয়, তাহলে শুকর ছাড়া অন্য কোন হারাম প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারে। শুকর নিষিদ্ধ কারণ, এটি পুরোটাই নাপাক। তাছাড়া এর বিকল্প প্রাণী পাওয়া যায়। তাই শুকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন জায়েজ হবে না।

৫ম পদ্ধতির মাঝে মতভেদ আছে। উপমহাদেশের অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এটাকে নাজায়েজ বলে থাকেন। তবে ভারতের কতিপয় উলামা এবং আরবের উলামাগণ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে এ সূরতটিকেও জায়েজ বলে থাকেন। মানুষের জীবন রক্ষার্থে কতিপয় উলামাগণের নিকট কতিপয় শর্তের সাথে এ পদ্ধতি জায়েজ হবার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এরপরও অঙ্গ ক্রয় বিক্রয় থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। কারণ, মানুষের অঙ্গ ক্রয় বিক্রয় করা বৈধ নয়।

যদি কতিপয় উলামাগণের বক্তব্য অনুপাতে জায়েজ হিসেবে আমলও করেন, তবু এর উপর তওবা ইস্তিগফার করা, সদকা খয়রাত করা আবশ্যক।

যেসব শর্তে ৫ম সূরতে ট্রান্সপ্লান্ট জায়েজঃ ১. যথাসাধ্য চেষ্টা করবে,যেন মুসলমানের অঙ্গ মুসলমানদের শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়। ২. কোন মানুষের এমন অঙ্গ কর্তন করা যাবে না যার উপর উক্ত ব্যক্তির প্রাণ নির্ভরশীল হয়। যেমন হার্ট ইত্যাদি।

৩. কোন মানুষের এমন অঙ্গ আলাদা করা জায়েজ নয়, যার দ্বারা ব্যক্তি মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন চোখ ইত্যাদি স্থানান্তর করা। ৪. অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য ডাক্তার একথা বলেন যে, এছাড়া আর কোন গত্যান্তর নেই। ৫. যা