মুহাম্মদ এহসানুল হক ।।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে পৃথিবীর একশ কোটি মানুষ এখন গৃহবন্দি। থেমে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থবির হয়ে গেছে মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য। পৃথিবী আবার কবে স্বমহিমায় জেগে উঠবে বলা যায় না। তবে এটা নিশ্চিত- পরিস্থিতি সহসাই উন্নতি হচ্ছে না। বিপদ শুধু করোনাই নয়, চলমান লকডাউন আর অঘোষিত কারফিউয়ের ফলে সামনে ধেয়ে আসছে অর্থনৈতিক সংকট। কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করে যাদের জীবন চলে তাদের অনেকের জীবন এখন এই গভীর সংকটের মুখোমুখি।
ফেসবুকের কল্যাণে কিছু মাদরাসা শিক্ষকের অর্থ কষ্টের বেদনাদায়ক সংবাদও আসছে। চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কিছু মুহতামিমের ভুলের কারণে গোটা মুহতামিম সমাজকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়ার অবস্থা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, কওমি মাদরাসাগুলোর এ পযর্ন্ত আসা, শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য, আবাসন ব্যবস্থার উন্নতিসহ সবকিছুর পেছনেই সিংহভাগ অবদান মুহতামিমদের। মুহতামিমদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাধনার উপর দাঁড়িয়ে আছে মাদরাসাগুলোর অবকাঠামো।
মুহতামিমদের ঢালওভাবে সমালোচনা করা উচিত নয়। আশপাশে তাকালেই দেখবেন বেশিরভাগ মুহতামিম জীবন উৎসর্গ করেছে মাদরাসার কল্যাণে। কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছি কম সময় হয়নি। আট নয় বছর হয়ে গেল। মুহতামিম হিসেবে পেয়েছি শাইখুল হাদিস রহ. এর সন্তান মাওলানা মাহফুজুল হকের মতো ব্যক্তিকে। কাছ থেকে দেখছি- মাদরাসার জন্য তিনি কী পরিমাণ পরিশ্রম করেন, প্রবীণ উস্তাদদের কতটা সম্মান করেন, ছোটদের কীভাবে স্নেহ করেন। দেখি আর মুগ্ধ হই।
আমরা যখন রাহমানিয়ার ছাত্র, আমাদের উস্তাদ আব্দুর রহিম সাহেব (বর্তমান মুহাদ্দিস, দারুল উলুম সাহাবানিয়া) বলতেন, সেরা মুহতামিমদের পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে সেটা মাহফুজ সাহেব পেতেন।
এভাবেই প্রতিটি মাদরাসার মুহতামিমগণ নিজেদের সবোর্চ্চ মেধা ও শ্রম ব্যয় করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানগুলো। আমি বিশ্বাস করি করোনাকালীন এই সংকটকালেও মুহতামিমরাই হাল ধরবেন ইনশাআল্লাহ। করোনা ভাইরাসের এই সংকট সামনের দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সে জন্য আমাদের এখনই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত।
বর্তমান এই সংকটে কী করতে হবে মুহতামিমরা ভালো বুঝবেন, তবুও কিছু ভাবনা বিনিময় করি। দু'একটি কথা কারো কাজে লাগতেও পারে।
এক. কওমি মাদরাসার সবোর্চ্চ অভিভাবক সংগঠন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া। বেফাকের পক্ষ থেকে মাদরাসা বন্ধের ঘোষণা ছাড়া এখন পযর্ন্ত আর কোনো দিক-নিদে