রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতে মুসলিম যুবক হত্যা ও বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের নিন্দা নেজামে ইসলাম পার্টির আস-সুন্নাহ কোর্সের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়ী সাফল্য তুলে ধরলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আমল পূর্ণাঙ্গ হয় না’ ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২ হাজার ৮৯ সৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে ওমরা পালনে যাচ্ছেন ৩০ বাংলাদেশি হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে ইমাম-খতিবদের সহযোগিতা চায় সরকার ৯০ দিন জামাতে নামাজ, ৩২ শিশু-কিশোর পেল বাইসাইকেল ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারিতে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির অনুতাপে অশ্রু জম্মু-কাশ্মীরে মুসলিম ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে বোরকা পরতে বাধা

আসন্ন রমজান সম্পর্কে নিবেদন: মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সীমাহীন কল্যাণ ও বরকতের মাস রমজান আমাদের দ্বারপ্রান্তে।আমরা জানি,এইমাসে বিভিন্ন প্রকারের নির্দিষ্ট কিছু ইবাদত করতে হয়। সেগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বও আরোপ করা হয়।অপরদিকে কোভিড১৯ এর মহামারি পুরো মানবজাতিকে কঠিন পরীক্ষায় নিপতিত করেছে।

এর থেকে বাঁচার জন্য এটাও জরুরি যে,যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে।এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে লক ডাউনও করা হয়েছে।

উদ্ধৃত পরিস্থিতিতে মোবারক এইমাসের গুরুত্ব এবং শরিয়তে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার গুরুত্ব, উভয় দিক লক্ষ্য করে সব-মুসলমানদের প্রতি নিম্নোক্ত নিবেদনগুলো করা হচ্ছে।

(১)পবিত্র এই মাসে তওবা ইস্তেগফার এবং দোয়া ও যিকির বাড়িয়ে দেওয়া। সাথে পুরো মানবজাতির জন্য
রোনাজারির সাথে দোয়া করা যে আল্লাহ তায়ালা যেন এই মহামারি দূর করে দেন।

(২) রমজানে অবশ্যই তারাবি নামাজ গুরুত্ব সহকারে আদায় করা। তবে মসজিদে শুধু চার-পাঁচজন মুসল্লি ইমামের সাথে তারাবি পড়বেন। কাতারে দাঁড়ানোর সময় ফাকা ফাকা হয়ে দাঁড়াবেন।ওজুও ঘর থেকে করে আসবেন।

(৩)বাকি মুসল্লিগণ তারাবি আদায় করবেন।যদি পরিবারে (ইমামতির যোগ্য) কেউ হাফেজ থাকেন তাহলে তিনিই ( খতম তারাবি) পড়িয়ে দিবেন। নতুবা সুরা তারাবি পড়ে নিবেন।ঘরে তারাবি হলে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন। এগুলো সম্ভব না হলে একাকী পড়ে নেবেন। তবে যত বেশি সম্ভব কুরআন তেলাওয়াত করবেন।

(৪)রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে - এতেকাফ।তবে এটি সুন্নতে কেফায়াহ।মহল্লার পক্ষ থেকে একজন এতেকাফে বসলেও সবাই দায়মুক্ত হবেন।তাই ছোট মসজিদ হলে একজন এবং বড় মসজিদ হলে দুই-তিনজনের বেশি এতেকাফে না বসা।

(৫) রমজানের রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ বিধান। তবে অসুস্থতার কারণে রোজা না রাখার অবকাশ আছে। তাই-- (ক)কোন রোগী যদি এই অবস্থায় উপনীত হয় যে,কোভিড১৯ এর লক্ষণ তার মধ্যে প্রকাশ পাচ্ছে;যেমন- লাগাতার শুকনো কাশি অথবা জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস; তাহলে তার রোজা না রাখা উচিত।

(খ)যদি কেউ প্রাথমিক অবস্থার কোভিড১৯ পজিটিভ হয়,তার জন্যও রোজা না রাখা উচিত। (গ) কারো যদি অধিক বয়স অথবা পূর্বের কোন রোগের কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয় এবং ডাক্তারেরও অভিমত এটা হয় যে,বর্তমান পরিস্থিতিতে রোজা রাখা তার জন্য তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে; তাহলে তার জন্যও রোজা না রাখা বৈধ।

(ঘ)ডাক্তার - নার্সদের এই সময়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।বিশেষত তাদের এখন লাগাতার এবং দীর্ঘ ডিউটি দিতে হচ্ছে কোভিড১৯ রোগীদের মধ্যেই।তাই ডাক্তাররা যদি পরামর্শ দেয় অথবা তারা নিজেরা অভিজ্ঞতা দ্বারা উপলব্ধি করেন যে,সারাদিন ক্ষুধার্ত ও পিপাসাযুক্ত থাকা তাদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে; তবে তাদের জন্যও এই সময় রোজা না রাখা জায়েজ হবে।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থার প্রেক্ষিতে তার মাজুর হওয়ার ফয়সালা হবে। এবং ওজরের ভিত্তিতে রোজা না রাখা জায়েজ হবে।যারা এই সমস্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে মাজুর নন,তারা শুধুমাত্র ভয়ের কারণে রোজা না রাখা জায়েজ হবে না।

লেখক: জেনারেল সেক্রেটারি: ইসলামিক ফিকহ একাডেমী, ইন্ডিয়া। অনুবাদ: আসিফ আহমাদ।

ওআই/আবদুল্লাহ তামিম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ