নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এসব দাবি জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানীর সভাপতিত্বে সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহারের সঞ্চালনায় সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গরু পাচারের সন্দেহে দুই মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় বলা হয়, কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াই আইনের শাসনের স্বাভাবিক পদ্ধতি। জনতার হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টার ঘটনাতেও নিন্দা জানায় নেজামে ইসলাম পার্টি। সভায় বলা হয়, কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার থাকলেও কূটনৈতিক মিশন ঘেরাও কিংবা এর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দল-মত ও পরিচয় নির্বিশেষে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে বাজারে কার্যকর নজরদারি, সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্য নির্ধারণে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয় ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভায় প্রতিবেশীসহ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক সফর, প্রশিক্ষণ, কর্মী সমাবেশ, সদস্য সংগ্রহ, দাওয়াতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের নিয়মিত সাংগঠনিক প্রতিবেদন দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দলের আদর্শ, মূলনীতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংগঠনিক পদ্ধতি ও কর্মনীতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, সৎ ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আইও/