সময়কে যারা পাঠ করতে পারেন সময়ের আগেই, চিন্তার সিঁড়ি বেয়ে ভবিষ্যৎ সময়ের গন্তব্য নিরূপণ করতে পারেন নির্ভুল পদ্ধতিতে, বিরল চেতনাবান সে মহান যুগস্রষ্টাদের আগমন ঘটে শতাব্দীর সুদীর্ঘ পরিসরে। উনিশ শতকের সে মহাচৈতন্য আল্লামা ইকবাল। তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আজ তার মৃত্যুর দিন। তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।
পরিচয়প্রবণতা বিবেচনায় ইকবালকে মূল্যায়ন করা হয় কবি, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক এবং আধ্যাত্মবাদী হিসেবে। তার রচনায় রয়েছে বহুধারাবিশিষ্ট বৈচিত্র্য। তার জীবন জুড়ে প্রত্যক্ষ করা যায় নানামুখী দিগন্তস্পর্শী দূরলক্ষ্যভেদী বিচরণ। তার রচনা ও জীবন অধ্যয়নসাপেক্ষে তার দার্শনিক সত্তাই প্রধান হয়ে ওঠে। আমৃত্যু তার নিরন্তর তৎপরতা ছিল ইসলামী কল্যাণদর্শন বা মুসলিম রেনেসাঁচেতনার নির্মাণের লক্ষ্যে।
উপমহাদেশে ইসলামী চিন্তাচর্চার ইতিহাস তার আগেও ছিল। এবং পূর্ববর্তী মুসলিম দার্শনিকদের উজ্জ্বল কর্মময় জীবনও মূল্যায়িত হয়েছে। কিন্তু তার পূর্ববর্তীদের চিন্তাচর্চার পরিসীমা অতি প্রশস্ত ছিল ইসলামের আভ্যন্তরীণ বিষয়াবলিতে। তারা বিপুল তৎপরতা নিয়ে মনোযোগী ছিলেন ইসলামের পালনীয় বিধানাবলীর যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা, বিশুদ্ধায়ন ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে।
ধর্মের সুস্থির রূপটির স্বরূপ সন্ধানই তাদের তৎপরতায় মৌলিকভাবে প্রাধান্য পায়। তবে আল্লামা ইকবাল দৃষ্টি প্রসারিত করেন ইসলামের অগ্রসরমান ও বিস্তরণশীল দিগন্তের দিকে। পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মের প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে ধর্মের সম্প্রসারণও আবশ্যিকতা লাভ করে। সে পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মুসলিম উম্মার ঐক্য। প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইতিহাসের নানা ধারায় বিচরণ। শানিত চিন্তার সমন্বয় এবং বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন। এখানেই আল্লামা ইকবাল তার পূর্ববর্তীদের পরিমণ্ডল অতিক্রম করে একটি নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। হাজির করেছেন মুসলিম উম্মার পুনর্জাগরণমূলক কল্যাণদর্শনের নতুন ইশতেহার।
আল্লামা ইকবাল আবির্ভূত হয়েছিলেন সহস্রাব্দের ইসলামী খেলাফত বিলুপ্তির কিছুকাল পরেই। মুসলিম উম্মার আদর্শিক পতন এ