বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
এবারের হজে ৬৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছে সৌদি আরব ‘বাজেটের পরিধির চেয়ে নিত্য পণ্যের দাম কমার সংবাদ চায় জনগণ’  সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা ‘ভারতে ধর্ম গ্রহণের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত’ ‘যোগ্য দায়িত্বশীল হতে প্রয়োজন আদর্শিক ও দক্ষতার উন্নয়ন’ আল আকসার ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা ইসরাইলের, হামাসের সতর্কবার্তা আর্থিক খাতে রাজনীতি নয়, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী

লেখালেখির জন্য আত্মবিশ্বাস এবং হতাশা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

এফাজ মোবারক।।

লেখালেখি করতে এসে অনেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, বা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগেন। এর কারণ তার লেখার উপর তার আত্মবিশ্বাস কম। নিজের লেখার ভালো মন্দ নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে হাতাশ হয়ে যায়। আমি ভালো লেখতে পারছি না, এমন দ্বিধায় সে আর সামনে এগুনোর সাহস পায় না।

নবীন লেখকদের এমনটা হয়ে থাকে বেশি। কোথাও লেখা পাঠালে লেখার মান ভালো নয় বিধায় ভালো পত্রিকায় প্রকাশ হয় না। এমন বার বার হতে হতে সে লেখালেখি প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। নিজের পড়াশোনার কমতির উপর দোষারোপ করে।

এমন হওয়াটা স্বভাবিক। কেননা লেখালেখি একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এক দুই মাস বা বছরেও এখানে কিছু করা যায় না। বছরেরে পর বছর টানা সাধনা করার পর এখানে সফলতা আসে। অনেকে বলে থাকেন, অন্তত ১০/১২ বছর নিয়মিত লেখালেখি করার পর ভালো কিছু করা সম্ভব। এই দীর্ঘ সময় আপনাকে ধৈর্য ধরে চলতে হবে। নিয়মিত পড়তে হবে এবং লেখা চালিয়ে যেতে হবে।

প্রথমে নিজের লেখার ভালো মন্দ বিচার করতে যাবেন না। লিখতে থাকবেন যা ইচ্ছে হয় সব লিখে ফেলুন। হাত চালু করুন। এমন অবস্থায় আসুন যে, এখন আপনি চাইলেই যে কোন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন। বলতে পারেন। আলোচনা করতে পারেন। এমন অবস্থায় উপনীত হলে, তরপর লেখার ভালো মন্দ মান বিচার করে সুন্দর করার চেষ্টা করুন। যাদের লেখা ভালো তাদের অনুসরণ করুন। সেমত ভালো লেখার চেষ্টা করুন। এভাবে লিখতে লিখতে একসময় নিজস্ব একটা ধারা তৈরি হয়ে যাবে।

এর ফাঁকে ফাঁকে প্রথমে ছোট ছোট পত্রিকা ও লিটলম্যাগে লিখে নিজেকে পরিচিত করে তুলুন। আপনি একজন লেখক এটা সবাইকে অবগত করার চেষ্টা করুন।

অনেক সময় আমরা ধোঁকায় পড়ে যাই, যখন কোনদিক দিয়েই কিছু করতে পারছি না তখন আমরা একটা ভুল কাজ করে বসি, সমকালীন যে-সব লেখক, কবি খুব ভালো লিখে জনপ্রিয় বা তাদের বই বাজারে ভালো চলতেছে, যে কোন পত্রিকায় তাদের লেখা ছাপাতেছে—তাদের মতো করে হুবহু তেমন লেখার চেষ্টা করি বা লিখিও। এটা ভুল। এটার কারণ আপনার নিজের উপর আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। আপনি আপনার মতো লিখবেন। প্রতিটি লেখকেই নিজের মতো লিখেই বড় হয়েছেন।

আপনি অন্যের মতো লিখতে গেলে তার মতো হুবহু অনুকরণ করতে গেলে আপনি হতাশ হবেন। কেননা সেই লেখকের পাঠকেরা আপনাকে গ্রহণ করা বদলে ইনগোর করতে থাকবে। আপনার লেখা তারা পড়তে চাইবে না। একসময় এমন অবহেলা পেতে পেতে আপনি লেখালেখি ছেড়েও দিতে পারেন।

একটা বিষয় আমি সবসময় অনুভব করে থাকি, যদি কোন বিষয়ে কিছু করতে চাও তাহলে, সেখানে নিজের সম্পূর্ণটা দিয়ে করো। অন্যন্য বিষয়ে দ্রুত কিছু করা গেলেও, লেখালেখি, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্যের বিষয়টা দীর্ঘ সময়ের, সাধনার। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কোন রকম প্রাপ্তি ছাড়াই কাজ করে যেতে হয়। এভাবে লেগে থেকে কাজ করতে করতে একসময় সফলতা আসে।

শেখ সা’দী রহ. বলেন, যে জিনিস দ্রুত অর্জিত হয়, তা স্থায়ী হয় না।

যে কোন বিষয়ের সাথে লেগে থকাবেন, সফলতা আসবেই।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, লেখালিখির কোন শর্টকাট পদ্ধতি নেই। কোন এক মাধ্যমে, কোন বিশেষ উপায়ে লেখক হয়ে যাবেন এমন কখনো সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠিত সবাই যেভাবে বড় হয়েছেন সেভাবেই তিলে তিলে নিজেকে নিজের লেখাকে প্রতিনিয়ত ভেঙে গড়ে তারপর একটা অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।

আপাততো কোন চিন্তা না করে নিজের মতো করে লিখে যান, আপনি সঠিক তো সব ঠিক। আগে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিশেবে গড়ে তুলুন। নিজের কাজের উপর নিজের আস্থা, ভরসা, সম্মান, বিশ্বাস না থাকলে, অন্য কেউ আপনাকে সম্মান দিয়ে যাবে না, মূল্যায়ন করবে না। আগে নিজের লেখা নিজেই মূল্যায়ন করুন। বাছ বিচার করুন। কম্পেয়ার করতে শিখুন। যারা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ অবদান রেখেছে তাদের লেখার সাথে নিজের লেখার তুলনা করুন। দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার উন্নতি হচ্ছে। আর সমকালীন লেখকদের তুলনায় প্রয়াত (মৃত) লেখকদের লেখা পড়ুন, অনুসরণ করুন।

আর নিয়মিত লিখুন যা লেখবেন তার থেকে হাজারো বেশি পড়বেন। প্রচুর পড়বেন। তাহলে আপনার নিজের ভুলগুলো নিজেই ধরতে শিখবেন।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ