বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ।। ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৫ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচারে করণীয় নির্ধারণে কাল হাইআতুল উলয়ার জরুরি সভা বন্যার্তদের পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তির দাবি হেফাজতের মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত জুলাই সনদের আলোকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান কওমি মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ছয় দফা সংস্কার প্রস্তাব রাতের মধ্যে দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা  মাদরাসায় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা নিশ্চিতে বেফাকের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা নেত্রকোনায় সমাজসেবা ভবনের লিফটে আটকা পড়া ৭ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার সরকারি হজ গাইড নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করা যাবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

৫ মাসের সন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পাঁচ মাসের এক শিশু সন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মে) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।

আজ শনিবার সকালে উপজেলার সদর ইউপির নতুন বন্দর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশুর লাশ ও পাশের একটি পুকুর থেকে গলা কাটা অবস্থায় গুরুতর আহত মাকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মায়েরও মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- মা হাফছা আক্তার হারেনা (২৭) ও শিশু ছেলে হাবিব। হাফছার বাড়ি রৌমারী সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর এলাকায়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রশীদের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার শৌলমারী ইউপির ওকড়াকান্দা গ্রামে। স্বামীর নাম শাহের আলী।

হাফছার বড় ভাই হাসেনুর রহমান জানান, কাজের সূত্রে তার স্বামী জামালপুরে থাকে। শিশু সন্তান অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার ওকড়াকান্দা গ্রামে তার স্বামীর প্রতিবেশী ও উকিল বাবা জাকির হোসেন জফিয়ালের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে শুক্রবার জফিয়ালের সঙ্গে কুড়িগ্রামে গিয়ে শিশু হাবিবকে ডাক্তার দেখিয়ে বিকালে আবারও রৌমারীতে ফিরে আসে।

তিনি দাবি করেন, ‘বিকালে বোনকে ফোন দিলে নৌকায় করে রৌমারী ফিরছেন বলে জানায়। কিন্তু সন্ধ্যা থেকে সে আর ফোন ধরছিল না। জফিয়ালকে ফোন দিলে তিনিও কেটে দেয়।

এরপর বোনের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে জফিয়ালকে বারবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি। শনিবার সকালে নতুনবন্দর গ্রামে বাবার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেত থেকে হাবিবের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

পাশের একটি পুকুর পাড় থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাফছাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন জফিয়াল পলাতক রয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকে হাফছার সঙ্গে তার স্বামীর বনিবনা হচ্ছিল না। এ জন্য বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতে থাকতেন। জন্মের পর তার সন্তান অসুস্থ হলেও স্বামী খুব একটা খোঁজখবরও নিতেন না। তবে ঠিক কী কারণে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের ভাই হাসেনুর দাবি করেন, ‘হাফছা মৃত্যুর আগে হত্যাকারীর নাম বারবার লেখার চেষ্টা করলেও হাত দিয়ে কলম ধরে রাখতে পারছিল না। আমার বোন ও তার শিশু সন্তানকে জফিয়াল হত্যা করেছে বলে আমাদের সন্দেহ। এ ঘটনায় তার স্বামীরও ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করি। বোনের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর উকিল বাবা জফিয়াল ও স্বামী শাহের আলীর বিরুদ্ধে মামলা করবো।’

রৌমারী থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় যেই জড়িত থাক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘খবর পেয়ে হাফছার স্বামী জামালপুর থেকে রৌমারী এসেছেন। তিনি এখন থানায় রয়েছেন। জফিয়ালের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ