শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ ।। ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের আসামে ভয়াবহ বন্যা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবার পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল কুবিতে শায়খে চরমোনাই, জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া লন্ডনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শিক্ষা সফর জুলাই অভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনই ছিল সক্রিয়: পীর সাহেব চরমোনাই মসজিদে নববীর কুরআন শিক্ষক শায়খ কারিম হাসুনার ইন্তেকাল আয়া সোফিয়ায় পুনরায় নামাজ শুরুর ছয় বছর পূর্তিতে এরদোগানের বার্তা ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মারুফ, সেক্রেটারি শরীয়াতুল্লাহ সাভারে চাঁদা দাবির জেরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি

৪৫০ বছর আগের বটগাছ ঘেরা প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: বগুড়ার কাহালু উপজেলার বোরতা গ্রামে ৫০ বছর আগেও যেখানে ঝোপঝাড় ছিল। সেখানে এখন দৃশ্যমান বটগাছ ঘেরা প্রাচীন একটি মসজিদ! বগুড়ার কাহালু উপজেলার বোরতা গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

গতকাল রোবরার (৫ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটি রূপান্তরিত হয়েছে বটগাছে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৫ ফুটি, প্রস্থ ১৩ ফুট। ৩ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিতে বড়জোর ১০ থেকে ১২ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারতেন।

এতে ইমাম দাঁড়ানোর জায়গাটি প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ও ২ ইঞ্চি প্রস্থের এক ধরনের ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মসজিদটি। স্থানীয়দের কেউ কেউ মন্তব্য করে বলেন, এই স্থাপনাটি ৪৫০ বছর আগের, কেউবা বলেন ১ হাজার বছর আগের, আবার অনেকেই বলেন কত আগের হবে সে তথ্য দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বর্তমানে সেখানে নামাজ পড়ার কোনো অবস্থা নেই। তবে এটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ঈদগাহ মাঠ। মসজিদটির অদূরেই রয়েছে একটি কবর। সেটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ থেকে ১৪ ফুট। মসজিদটির দেয়ালে চুন-সুড়কি দিয়ে ছোট ছোট ইট গাঁথা আছে। বটগাছটির শেকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদ।

ভেতরে কিছু রঙিন আলপনা রয়েছে। পুরনো হওয়ায় এখানে নামাজ পড়ার কোনো পরিবেশ নেই। ৮০ বছর বয়সী স্থানীয় আব্দুল হামিদ বাংলানিউজকে জানান, ৫০ বছর আগে এখানে ঝোপঝাড় ছিল। ঝোপঝাড়ের আড়ালে বড় বটগাছটিই শুধু দেখা যেতো। তাদেরও মুরুব্বিরা বলতেন এর ভেতরে একটি মসজিদ আছে। পরে এলাকাবাসী ঝোপঝাড় পরিষ্কার করলে দেখা মেলে মসজিদটি। তিনটি মিনারের দুটি ঠিক থাকলেও একটি নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এটিকে কেন্দ্র করে এর সামনেই ২৩ শতক (স্থানীয় পরিমাপ) জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে ঈদগাহ মাঠ। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দুটি নামাজে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা আসেন এখানে। এখনো মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দিকের শতাধিক গজ পর্যন্ত যে কোনো স্থান খুঁড়লেই বেরিয়ে আসে পুরনো মাটির পাতিল, চুলা, কলস ও সে সময়কার পানি রাখার বড় পাত্রসহ নানা ধরনের প্রত্নসামগ্রী।

স্থানীয়দের মতে, মসজিদের পাশেই যে বড় একটি পুকুর রয়েছে তাতে অনেক মাছ দেখা গেলেও পানি নিষ্কাশনের পর কোনো মাছ পাওয়া যায় না। সেখানকার গাছের ডাল কিংবা ইট-পাথর যাই হোক কোনো কিছুই কেউ নিয়ে যেতে পারে না। আবার সন্ধ্যার পর এখানে কেউ আসে না।

ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারিভাবে মসজিদটি সংস্কার করা দরকার বলে মনে করেন স্থানীয় লোকরা। এছাড়া মসজিদ থেকে মূল রাস্তা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা রয়েছে সেটি পাকা করে পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা করে দেওয়া দরকার।

বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, প্রাচীন ওই স্থাপনাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। রোরতা গ্রামের ওই স্থাপনাটি গাছ এমনভাবে ঘিরে ফেলেছে যা কোনোভাবেই সংরক্ষণ করার মতো অবস্থায় নেই।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ