শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে সরকার জেনেভায় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্বাক্ষর ইউরোপে ৪ মার্কিন বিমান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা সিলেটে দুই মাজারের কোটি টাকা তছনছ, হিসাব চাইলেন ডিসি সারওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি: ইসলামী যুব আন্দোলন বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনে সীমান্ত অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত হজ প্রস্তুতি নিয়ে আল ওয়াসির ফ্রি অনলাইন আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর সভা ফেনীতে দুই মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার এইচএসসির চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করল ঢাকা বোর্ড

বাড়িতে বাবার লাশ রেখে এসএসসি পরীক্ষা দিল নাহিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বৃহস্পতিবার সকালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় বসবে নাহিদ হোসেন। এর আগের রাতে বাবা আক্তার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাড়ির আঙিনায় বাবার লাশ রেখেই পরীক্ষায় অংশ নেয় নাহিদ। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার লাশ কাঁধে নিয়ে শেষবিদায়ে অংশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বড়হাড়গিলা গ্রামে। 

আজ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রামে নাহিদের বাবা আক্তার হোসেনের (৪৫) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বুধবার রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার সকালে দাফনের কথা থাকলেও নাহিদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য দাফনের সময় পিছিয়ে বেলা দুইটায় দেওয়া হয়।

নাহিদ এ বছর স্থানীয় মাতাইনকোট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। উপজেলার হরিশ্চর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরীক্ষার্থী নাহিদ জানিয়েছে, তার বাবা চার মাস ধরে টিবি রোগে আক্রান্ত। ঋণ করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাবার চিকিৎসার চেষ্টা করেছে তার পরিবার। গত মঙ্গলবার বিকেলে তার বাবার নাকে–মুখে রক্ত বের হতে থাকলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার তিনি বাড়িতে থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এরই মধ্যে দিবাগত রাত দেড়টায় বাবার মৃত্যুর খবর পায় সে।

বৃহস্পতিবার সকালে বাবার নিথর দেহ বাড়ির আঙিনায় রেখে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল নাহিদ। নাহিদ বলে, ‘পরীক্ষার হলে বসেও বাবাকেই ভাবছিলাম। কিছু লিখলেই উত্তরপত্রে সবকিছু সাদা কাপড়ে মোড়ানো বাবার লাশ চোখে ভাসছিল। তারপরও কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। পরিবারে আমার মা রয়েছে। একমাত্র বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। আমার ছোট ভাইটি মাতাইনকোট উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। আমার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষার হল থেকে ফিরে নাহিদ জোহরের নামাজ আদায় করে। এরপর বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে বাড়ি থেকে বড়হাড়গিলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে যায়। জানাজা শেষে আবারও খাটিয়া কাঁধে নিয়ে ধর্মীয় নিয়ম মেনে নিজের বাবার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।

মাতাইনকোট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘নাহিদ এবার আমাদের স্কুলের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। ছেলের পরীক্ষার কারণে সকাল থেকে পিছিয়ে দুপুরে তার বাবা জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আমি তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ