ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণমাধ্যম কমিশন গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে সঠিকভাবে গণমাধ্যম কমিশন এবং তার কোয়াসি-জুডিশিয়াল ক্ষমতা সম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে সেটিই হবে ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ বছর পর সংবাদপত্রের কালো দিবসের সালতামামি করলে দেখা যায়, অতীত ও বর্তমানের সংকট এক নয়। বর্তমানে সংবাদপত্রের কালো দিবস, গণমাধ্যমের সংকট ও সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও সাংবাদিকতা পেশায় প্রত্যাশিত সম্মান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত তৃপ্তি অনুপস্থিত।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা– এই তিন বিষয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এই তিন বিষয়কে সমন্বিতভাবে সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ উদ্দেশ্যে ১৮ জুন জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) খসড়া প্রণয়নের জন্য মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের পাশাপাশি সিটিজেন জার্নালিজমের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যাবে না, আবার নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ খাতকে একটি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব গণমাধ্যম নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাদের অবশ্যই প্রচলিত আইন মেনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে কেবল মুনাফাভিত্তিক শিল্প নয়, জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
জেডএম/
