নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ২৩ বছর নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মসজিদের খেদমত করার পর অবসরে যাওয়া মুয়াজ্জিন গোলাম কবিরকে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা ও আবেগঘন বিদায় দিয়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার স্থানীয় যুবসমাজ। উত্তর জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের এই প্রবীণ মুয়াজ্জিনকে সম্মান জানাতে শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমার নামাজের পর মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিশেষ বিদায়ী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা গোলাম কবিরের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলীর প্রশংসা করেন।
বিদায়ী সংবর্ধনা শেষে সুসজ্জিত একটি মাইক্রোবাসে করে গোলাম কবিরকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা তাঁর গাড়িকে বহর দিয়ে নিয়ে যায়। পুরো পথজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় তাঁকে বিদায় জানান। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লি আকামত আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আনর মিয়া, মইন উদ্দিন ও আজিজুল মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক আলী হোসেন খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রামের যুবসমাজের পক্ষ থেকে গোলাম কবিরের হাতে সম্মাননা স্মারক, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন ফারুক মিয়া, আনর মিয়া ও আলী হোসেন রাজ। তারা বলেন, গোলাম কবির একজন মুয়াজ্জিন হিসেবে শুধু আজান দেওয়া বা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে একজন আপনজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের নিরলস সেবা ও আদর্শিক জীবনধারা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে গোলাম কবিরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভালোবাসায় ব্যতিক্রমী এই বিদায়ী আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত অনেকে।
আইও/