সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

৩৩ শিশুকে যৌন নির্যাতন: দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতে এক দশক ধরে ৩৩টি শিশুকে পাশবিক যৌন নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ডার্ক ওয়েবে ৪৭টি দেশে বিক্রির দায়ে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) উত্তর প্রদেশ-এর বান্দা জেলার পকসো (শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা) আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ পি কে মিশ্র এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধের শামিল; আসামিদের সংশোধনের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রযোজ্য।

দণ্ডিতরা হলেন জলকল বিভাগের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ৫০ বছর বয়সী রাম ভবন এবং তাঁর ৪৭ বছর বয়সী স্ত্রী দুর্গাবতী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ৩৩ শিশুকে তারা বিভিন্ন প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করে। অনলাইন ভিডিও গেম খেলার সুযোগ, টাকা ও উপহারের লোভ দেখিয়ে শিশুদের কাছে টানা হতো। নির্যাতনের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ইন্টারনেটের গোপন নেটওয়ার্ক ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি গ্রাহকদের কাছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।

দীর্ঘদিনের এই নির্যাতনে অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েকজন শিশুর চোখে স্থায়ী ট্যারাভাব তৈরি হয় এবং কিছু শিশুকে যৌনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। ট্রমা কাটাতে দিল্লির AIIMS-এর চিকিৎসকদের বিশেষ সহায়তা নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে ২০২০ সালে। ডার্ক ওয়েবে শিশু নির্যাতনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল-এর নজরে এলে তারা ভারত সরকারকে সতর্ক করে। এরপর সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) তদন্ত শুরু করে এবং ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দম্পতির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগী শিশুদের সাক্ষ্যই মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।

আদালত পকসো আইন ও ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি কমল সিং গৌতম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুরা এখনো গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রায়ের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় বিচার বিভাগ কঠোর বার্তা দিল।

সূত্র: The Times of India

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ