আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের উত্তরাখণ্ডে মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্ত করার পর এবার ৪৫৬ টি মাদরাসার সরকারি অনুদান বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মৃসলিম নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাদরাসা বোর্ড বিলুপ্তি এবং নতুন সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাখণ্ড সরকার ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে ৪৫৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে সূত্রে জানানো হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রীসভার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রীসভা মাদরাসাগুলোর অনুদান বাতিলের বিষয়টি অনুমোদন করে জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকার যেহেতু সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে, তাই পূর্ববর্তী অনুদান ব্যবস্থাটি এখন অপ্রয়োজনীয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, শুধুমাত্র স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পাবে।
সরকারের মতে, নবগঠিত সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের স্থলাভিষিক্ত। নতুন এই প্রতিষ্ঠানই এখন সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি, নিয়ন্ত্রণ এবং তত্ত্বাবধান করবে।
এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে মহাপরিচালক (তথ্য) বংশীধর তিওয়ারি বলেন, মাদরাসা বোর্ড ১ জুলাই থেকে তার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর পরিবর্তে গঠিত হয়েছে উত্তরাখণ্ড রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
তবে, সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগের বিশেষ সচিব ড. প্রাগ মধুকার ধাকাটে জানান, মাদরাসা বোর্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত অনুদান এখন বন্ধ করে দেওয়া হলেও উত্তরাখণ্ড রাজ্য সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্বীকৃত মাদরাসরগুলো ভারত সরকারের ইউ-ডিআইএসই (U-DISE) প্রকল্পের অধীনে উপলব্ধ সুবিধা ও সুযোগ-সুবিধা পাবে।
রাজ্য সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন, আলেম-উলামা ও মুসলিম নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
সর্বভারতীয় মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী বেরেলভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার চায় না মুসলিমদের তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করুক বা জীবনে উন্নতি করুক। এর আগে প্রায় ১৫০টি অননুমোদিত মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া এবং উত্তরাখণ্ড মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বিলুপ্ত করার কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তি দেন যে, আর্থিক সহায়তা বন্ধ করাও একই বিরোধীতার আরেকটি পদক্ষেপ।
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ইঞ্জিনিয়ার এই পদক্ষেপকে মুসলমানদের প্রতি বৈরী পরিবেশের অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধান প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয় এবং স্বীকৃত মাদরাসাগুলো শুধু ইসলামি শিক্ষাই প্রদান করে না, বরং হিন্দি, ইংরেজি এবং অন্যান্য মূলধারার বিষয়ও পড়ায়, যার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রাখে।
এদিকে, অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি ব্যতিক্রমী মন্তব্য করে বলেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে জাকাতের মতো সামাজিক অনুদানের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পরিচালিত মাদরাসাগুলো অপ্রভাবিত থাকবে। কেননা, তারা সরকারি অনুদান বা সরকার-নিযুক্ত শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীল নয়। তবে, তাদের জন্য শুধুমাত্র প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন প্রয়োজন।
উত্তরাখণ্ড সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কারণে মৌলভী , আলিম এবং মুন্সির মতো প্রশংসামূলক শব্দগুলো এখন আর সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য স্বীকৃত নয়। ফলে এই সিদ্ধান্তে মাদরাসাগুলোর বাহ্যিক ক্ষতি ছাড়াও ঐতিহাসিক মর্যাদা বিপন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: মুসলিম মিরর
আওয়ার ইসলাম/জেডএম
