শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতেও যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি দুর্গাপূজায় দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাইলেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নয়, সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: আমিরে মজলিস পার্বত্যাঞ্চলকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র চলছে: জমিয়ত ‘মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে, এতে আমি ক্লান্ত’ ‘সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ ম্যানহাটনে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের দোয়া মাহফিল ও জুমাপূর্ব বক্তব্য নতুন প্রজন্মের ঈমান রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: মাওলানা আরশাদ মাদানি ইসলাহি ইজতেমা সফল করতে ঢাকায় আঞ্জুমানে হেফাজতের মতবিনিময় সভা বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে শুরায়ি নেজামের প্রেস ব্রিফিং শনিবার

নতুন প্রজন্মের ঈমান রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: মাওলানা আরশাদ মাদানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তি ও সংশয়ের জবাব দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের ঈমান-আকিদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও আমিরুল হিন্দ মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানি। এ কাজে দীনী সংগঠন ও মাদরাসাগুলোকে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ইমারতে শরইয়্যাহ হিন্দের মজলিসে শুরার এক দিনের বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, শরয়ি আদালতের সম্প্রসারণ, বিচারক ও মুফতিদের প্রশিক্ষণ এবং মুসলমানদের পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার শরিয়াহভিত্তিক সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইমারতে শরইয়্যাহ হিন্দের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাদানি হলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশের শুরা সদস্য, আমিরে শরিয়ত ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি, মুফতি আবুল কাসেম নোমানি ও মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, বর্তমান সময়ে নাস্তিকতা ও নাস্তিক্যবাদী চিন্তার মাধ্যমে ইসলাম এবং এর মৌলিক বিশ্বাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসলামের পক্ষে যুক্তিনির্ভর জবাব তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের ঈমান-আকিদা রক্ষায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দীনী সংগঠন ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের এ কাজকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে এ উদ্দেশ্যে বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে ইসলামের পক্ষে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও জবাব তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবে ‘হেল্প এক্স মুসলিম’ নামে একটি ওয়েবসাইট ও চ্যানেলের কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মুফতি সাইয়্যেদ মাসুম সাকিব কাসেমি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তির জ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিপূর্ণ জবাব দেওয়া হচ্ছে। শুরা সদস্যরা উদ্যোগটির প্রশংসা করেন।

বৈঠকে জনসাধারণের শরয়ি নির্দেশনা ও পরামর্শের সুবিধার্থে প্রাদেশিক ইমারতগুলোর অধীনে প্রচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। তাঁদের কাজ হবে ইমারতে শরইয়্যাহর উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও শরয়ি আদালতগুলোর পদ্ধতি সম্পর্কে আলেম ও সাধারণ মানুষকে অবহিত করা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রচারক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বিভিন্ন শরয়ি আদালত পরিদর্শন করে সেগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংগঠনটির কার্যক্রম ও শরয়ি নির্দেশনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর অনুমোদনও দেওয়া হয়।

বৈঠকে দেশটির প্রায় ১২টি প্রদেশে পরিচালিত ১৭০টির বেশি শরয়ি আদালতের কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মুফতি জাকাওয়াত হুসাইন কাসেমি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে ২৮টি, আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ৪৬টি, পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি, ওডিশায় ১৫টি, রাজস্থানে ১২টি, কর্ণাটকে ১২টি, হরিয়ানা-পাঞ্জাব-হিমাচল প্রদেশে ১২টি, তেলেঙ্গানা-অন্ধ্র প্রদেশে ১২টি, তামিলনাড়ুতে ৮টি, দিল্লিতে ৪টি এবং গুজরাটে ৩টি শরয়ি আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
শরয়ি আদালতগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কাজি এবং মুফতি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা। এ লক্ষ্যে ওডিশা, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ এলাকায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

এ ছাড়া গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে বছরে অন্তত দুবার মজলিসে শুরার বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে ইমারতে শরইয়্যাহ হিন্দের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং যেসব প্রদেশে এখনো সংগঠনটির কার্যক্রম প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেখানে তা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে মাওলানা আরশাদ মাদানি ছাড়াও মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি, মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরী, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আজমি, মাওলানা সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানি, মাওলানা সাইয়্যেদ আশহাদ রশিদিসহ বিভিন্ন প্রদেশের আলেম ও সংগঠনের দায়িত্বশীলরা অংশ নেন। সূত্র: ফেসবুক পেইজ

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ