আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেয় করা এবং তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তিনি বলেছেন, ‘মুসলিম হওয়ার কারণে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে—এতে আমি ক্লান্ত।’
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্লোরিডার কইনোনিয়া ওয়ারশিপ সেন্টারে ‘মাল্টিপল ফেইথস, ওয়ান ফ্লোরিডা’ শীর্ষক এক আন্তধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিল ক্লিনটন বলেন, প্রতিটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই ভুল করা মানুষ রয়েছেন। কারণ, কোনো মানুষই সম্পূর্ণ নিখুঁত নন। তাই কোনো ব্যক্তির খারাপ আচরণের দায় পুরো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
পবিত্র কোরআনের সঙ্গে নিজের পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁর মেয়ে চেলসি ক্লিনটন ১৫ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছিলেন। পরে তিনিও কোরআন পড়তে উৎসাহিত হন।
ভাষণে পবিত্র কোরআনের সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে ক্লিনটন বলেন, ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ নয়, বরং পারস্পরিক পরিচিতি ও বোঝাপড়া গড়ে তোলা জরুরি।
আয়াতটিতে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
বিল ক্লিনটনের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। মিশিগান থেকে সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী মুসলিম ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া এল-সায়েদের রাজনৈতিক বিরোধীরাও তাঁকে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
এমএম/