আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
হাদীস শরীফে মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়ের অসামান্য ফজিলত ও বিপুল সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বিশেষ সওয়াব কেবল মূল মসজিদদ্বয়ের সীমানায় সীমাবদ্ধ, নাকি পুরো হারাম এলাকার জন্য প্রযোজ্য—এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে, হাদীসে সরাসরি ‘মসজিদুল হারাম’ শব্দ এসেছে। তাই এক লাখ নামাজের সওয়াবের বিশেষ ফজিলত কেবল কাবা শরিফের চারপাশে অবস্থিত মূল মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করলেই অর্জিত হবে। এর বাইরে অন্য কোনো মসজিদে নামাজ পড়লে এই বিশেষ ফজিলত পাওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরামের মতে, এখানে ‘মসজিদুল হারাম’ দ্বারা পুরো হারাম সীমানা উদ্দেশ্য। তাই মক্কার হারাম সীমানার ভেতরে যেকোনো মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায় করলেও আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা এক লাখ নামাজের সওয়াব দান করবেন।
এ বিষয়ে রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, মসজিদুল হারামে নামাজের সওয়াব বহুগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে ‘মসজিদুল হারাম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ পুরো হারাম এলাকাকে উদ্দেশ্য বলেছেন, কেউ কাবা শরিফ ও তার সংশ্লিষ্ট অংশকে বুঝিয়েছেন, আবার কেউ কাবা শরিফ ও তার চারপাশের মসজিদকে উদ্দেশ্য বলেছেন। গ্রন্থটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, এই ফজিলত পুরো মক্কা; বরং পুরো হারাম এলাকার জন্য প্রযোজ্য।
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুস সালাত, মতলাব ফি আফদালিল মাসাজিদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৫৮)
এ বিষয়ে আহসানুল ফাতাওয়া গ্রন্থেও প্রশ্নোত্তর আকারে আলোচনা এসেছে। সেখানে প্রশ্ন করা হয়েছে, মসজিদুল হারামে নামাজ আদায়ের বিশেষ সওয়াব কি শুধু মসজিদুল হারামের ভেতরেই সীমাবদ্ধ, নাকি হারাম এলাকার অন্য স্থানেও নামাজ পড়লে তা পাওয়া যাবে? উত্তরে বলা হয়েছে, সওয়াবের আধিক্য পুরো হারাম এলাকাজুড়েই রয়েছে এবং তা অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে, হারাম এলাকার মসজিদ ও মসজিদের বাইরের স্থানে নামাজের সওয়াব সমান।
(আহসানুল ফাতাওয়া, কিতাবুস সালাত, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৪, প্রকাশক: এইচ এম সাঈদ)
সুতরাং, মক্কায় অবস্থানকালে কোনো ব্যক্তি বৃদ্ধ, অসুস্থ, প্রচণ্ড ভিড় কিংবা অন্য কোনো শরয়ি ওজরের কারণে মূল মসজিদুল হারামে যেতে না পারলে হারাম এলাকার কাছের কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা রাখা যায়।
তবে মনে রাখা জরুরি, মসজিদুল হারামের মূল জামাতে শরিক হওয়ার বিশেষ মর্যাদা, কাবা শরিফের সান্নিধ্যে ইবাদত করার সৌভাগ্য এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায়ের যে অনন্য অভিজ্ঞতা—তা অন্য কোনো ছোট মসজিদে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ‘অন্যত্র নামাজ পড়লেও এক লাখ নামাজের সওয়াব পাওয়া যাবে’—এই মতের ওপর ভিত্তি করে অলসতাবশত মসজিদুল হারামের মূল জামাত অবহেলা করা উচিত নয়।
শরয়ি কোনো বড় ওজর না থাকলে সর্বাবস্থায় চেষ্টা করা উচিত, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে উপস্থিত হয়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার। কারণ, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইবাদতের ফজিলত সম্পর্কে জানার পাশাপাশি যথাসম্ভব উত্তম পদ্ধতিতে ইবাদত করার প্রতিও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন।
এসএইচ/