|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||
এই দেশে সিনেমা হলের চেয়ে খারাপ জায়গাও তো আছে। মদের ক্লাব-বারও আছে এবং সেগুলোর অনুমোদনও আছে। সবারই কিছুটা জানা না জানার মধ্যেই সেগুলো চলছে। ভালো-মন্দসহ সংস্কৃতি ও জীবন-অভ্যাসে বৈচিত্র্য, ভিন্নতা, ভিন্নমত প্রত্যেকটাই কিন্তু একেকটা এরিয়া এবং সীমানা রক্ষা করে চলছে।
মুভি চলবে মুভির জায়গায়, যদি চলতেই হয়। কোনো মুভি, সেটা যদি বিশেষ কোনো দেশভিত্তিক/তথ্যভিত্তিক শিক্ষণীয় ডকুমেন্টারি না হয়, স্কুলে কলেজে বিদ্যালয়ে হাটে বাজারে আয়োজন করে করে দেখানোর কী দরকার? এই যুগে? এত ডিভাইস ও ইন্টারনেটের ব্যাপকতার মধ্যে? একটা মুভি এত পবিত্র ব্যাপার হয়ে গেল কবে? এত গণ ও শাশ্বত রূপ ধারণ করলো কোন মাপকাঠিতে? মুভির জন্য তো সিনেমা হল আছে, সিনেপ্লেক্স আছে; চাই কি সরকারি বেসরকারি অডিটোরিয়ামও আছে। জেলা শহরের স্কুল কলেজ হাটবাজার বেছে নিচ্ছেন কেন? গায়ের উপর সংস্কৃতি তুলে দিচ্ছেন কেন? সরল ধর্মপ্রাণ মানুষদের ক্ষেপিয়ে তুলছেন কেন?
মুভি ওয়ালাদের কাছে মুভির ভালো-মন্দ আছে। কিন্ত গান বাদ্য বিনোদন শিল্পকলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান ও দৃষ্টিভঙ্গির বিবেচনায় প্রচলিত কমার্শিয়াল মুভি সর্বোচ্চ একটি সুশোভিত আবর্জনা। এটাকে মহব্বত করে ভালোবেসে পাতে তোলার কোনো সুযোগ নাই; (ইসলামের প্র্যাকটিস মানা মুসলিমের জন্য)। ওই আবর্জনা কারো ভালো লাগলে উনি ডাস্টবিনের পাশে এসে দাঁড়াবেন, গন্ধ শুঁকে চলে যাবেন নির্দিষ্ট জায়গা থেকে। কারো কাছে বাদ্যসহ কোনো গান, কোনো নারীর নৃত্য কিংবা কোনো মুভি ভালো লাগে অথবা লাগতে পারে। এই রুচি তার রুচি, এবং এই রুচি ব্যক্তি মানুষ ও প্রচলিত সংস্কৃতিজাত বিনোদন্মুখী রুচি। ইসলাম এটাকে কেন সমর্থন করে না কিংবা এটার ইসলামায়ন হবে না কেন এ ধরনের প্রশ্নের সুযোগ নেই। সমাজের বুঝদার এলিটেরা এসব বিষয় নিয়ে অহেতুক জটিলতার দিকে কেন যান, এর সহজ কারণ বুঝে আসে না।
ব্যক্তি আমি, আপনি আমাদের অনুভূতিগত ভালোমন্দ লাগার অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিবেশিক দিক থাকতে পারে। বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর নরম কোনো অনুভূতির সঙ্গে সেটা সাংঘর্ষিক হলে গুঁতোগুঁতি করার কোনো দরকার নেই তো। ভিন্ন ভিন্ন জাতি গোষ্ঠী ও পছন্দের সহাবস্থানের মতো যার যার জায়গায় সেটা চলুক। আপনার ট্রেন আমার বাড়ির ভেতর দিয়ে যেতে হবে কেন? স্কুলে কলেজে হাটে বাজারে ঢুকতে হবে কেন? মাঠের ওই পাশের লাইন ধরে চলুক না।
লেখক: জ্যেষ্ঠ আলেম সাংবাদিক ও বিশ্লেষক