বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ।। ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৫ সফর ১৪৪৮


শিক্ষাব্যবস্থাই যেখানে সমস্যার অনুঘটক!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| মুফতি আফফান বিন শরফুদ্দীন ||

আল্লাহর দুনিয়ায় সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ ও দামি জিনিস হচ্ছে 'ইলমে ওহি'। তাই পুরো মানবজাতির সবচে মেধাবী, রুচিশীল ও শ্রেষ্ঠতম গুণাবলির অধিকারী মানুষদের আল্লাহ নবী বানিয়েছেন। জন্মগতভাবে শারীরিক ও মানসিক কোনো রকম সীমাবদ্ধতা আছে এমন কাউকে আল্লাহ নবুওয়াত দেননি। সাহাবিরা হচ্ছেন নবীদের পরে সবচেয়ে বেশি জেনেটিক্যালি প্রিভিলেজড মানুষ। মেধা, যোগ্যতা ও গুনাবলিতে তারা উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান। ফলে উম্মতের মধ্যে ইলমে ওহির সবচেয়ে বড় ধারক তারাই।

পরবর্তী সময়ে প্রতিটি প্রজন্মের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষেরাই ইলমে ওহির ধারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বুখারি, আহমদ, মালেক, আবু হানিফা, শাফেয়ি, তহাবি, নববী, আসকালানি, জাহাবি, ইবনে তাইমিয়াসহ প্রত্যেকেই ছিলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠতম মেধাবী ও পবিত্রতম চরিত্রের অধিকারী। উম্মতের সেরা সন্তানরা যতদিন ইলমে ওহিকে ধারন করেছে ততদিন মুসলমানরাও সারা দুনিয়াতে মাথা উঁচু করে চলেছে।

আর আমরা যখন থেকে অযোগ্য, অভদ্র, নীচ, মেধাহীন লোকজনকে আলেম বানাতে শুরু করেছি তখন থেকেই আমাদের অধঃপতন ত্বরান্বিত হয়েছে। আজকাল তো তেত্রিশে পাস করা কিংবা ফেল্টুস ছাত্ররাও সমাজে নিজেদের আলেম পরিচয় দেয়। আবার চরিত্রহীন লম্পটরাও দিব্যি আলেম পরিচয়ে সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের ভঙ্গুর, ঘুণে ধরা শিক্ষাব্যবস্থাই বছরের পর বছর এই সুযোগ তৈরি করে রেখেছে। কোনো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও মনিটরিং না থাকার ফলে অযোগ্য ও বেতরবিয়ত মানুষেরা যখন আলেম হিসেবে সমাজে নানান রকম কাণ্ডকারখানা ঘটাচ্ছে তখন মুখে চুনকালি পড়ছে পুরো আলেম সমাজের। লজ্জিত হচ্ছেন সত্যিকারের আহলে ইলমরা। অথচ যদি শিক্ষাব্যাবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো হতো যে, শুধুমাত্র শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও সর্বোচ্চ চরিত্রবান, ম্যাচিউরড মানুষরাই আলেম হিসেবে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে তাহলে এই বিপর্যয় হয়তো কখনো হতোই না।

দীন শিখবে সকলেই, কিন্ত আলেম হবে শুধু অল্প কয়েকজন। আল্লাহ তায়ালা কোরআনেও এ কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। তাই প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা সকলের জন্যই উন্মুক্ত থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজন স্কুলের মতো গণশিক্ষা কার্যক্রম। পক্ষান্তরে আলেম হবে শুধু সমাজের সবচেয়ে মেধাবী ও শ্রেষ্ঠ কিছু মানুষ। সাইন্স অনুসারে যেকোনো জাতির দুই পার্সেন্টের মতো মানুষ জিনিয়াস লেভেলের মেধা রাখে। আর আলেম হওয়ার জন্য, সমাজকে সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এই দুই পার্সেন্ট মানুষই যথেষ্টর বেশি। তাই শিক্ষাব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যাতে শুধু যারা মেধা, রুচি ও মানবিক গুণাবলিতে হবে সকলের মধ্যে সর্বোচ্চ শুধু তারাই এই সিস্টেমে একাডেমিকভাবে উচ্চতর পড়াশোনার ও আলেম হিসেবে সার্টিফাইড হওয়ার সুযোগ পাবে। ইলমের আমানত শুধু সেই ধারণ করবে যে এটার উপযুক্ত। বাকিদেরকে অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে। তারা আবেদ হবে, আলেম না।

মেশকাত শরিফে একটা বর্ণনা আছে, যার মর্মার্থ হলো, অপাত্রে ইলম দেওয়া হলো শূকরের গলায় মুক্তোর মালা ঝুলানো। আমরা সেই ভুলটাই বছরের পর বছর ধরে করে আসছি। এবং এর কুফল ভোগ করছে পুরো জাতি।  আল্লাহ আমাদের শোধরানোর তাওফিক দিন।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, উচ্চতর ইসলামি আইন অনুষদ, জামিয়া উসমান রা.; ইমাম ও খতিব, বাইতুল মাহফুয জামে মসজিদ, নিকুঞ্জ- ২, খিলক্ষেত, ঢাকা

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ