মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ।। ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচারে করণীয় নির্ধারণে কাল হাইআতুল উলয়ার জরুরি সভা বন্যার্তদের পাশে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা, অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তির দাবি হেফাজতের মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত জুলাই সনদের আলোকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে: গাজী আতাউর রহমান কওমি মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ছয় দফা সংস্কার প্রস্তাব রাতের মধ্যে দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা  মাদরাসায় শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা নিশ্চিতে বেফাকের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা নেত্রকোনায় সমাজসেবা ভবনের লিফটে আটকা পড়া ৭ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার সরকারি হজ গাইড নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করা যাবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

কওমি মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ছয় দফা সংস্কার প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কওমি মাদরাসার ভাবমূর্তি রক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্বশীল আলেমদের প্রতি ছয় দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক খোলা চিঠিতে তিনি কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসসহ সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ডগুলোর প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

খোলা চিঠিতে আহমাদুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কওমি মাদরাসার অবদান অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রীয় অনুদান ছাড়াই জনগণের সহযোগিতায় পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এতিম, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, আবাসন ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবেও কওমি মাদরাসা মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু মাদরাসায় শিশুদের প্রতি শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামে শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণের নির্দেশনা থাকলেও কিছু ব্যক্তির অপরাধ পুরো মাদরাসা অঙ্গনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও ন্যায়সঙ্গত নয়।

তিনি দাবি করেন, কিছু গণমাধ্যম ও স্বার্থান্বেষী মহল অনেক সময় ব্যক্তিগত অপরাধকে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নিরপরাধ আলেমও মিথ্যা অভিযোগের শিকার হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই এবং আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই কওমি মাদরাসার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখা সম্ভব।

ছয় দফা সংস্কার প্রস্তাব

খোলা চিঠিতে কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ছয়টি প্রধান প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, গুরুতর শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে শীর্ষ আলেম, আইনজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে আল-হাইআতুল উলইয়ার অধীনে একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ব্ল্যাকলিস্ট তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো মাদরাসায় চাকরি করতে না পারেন। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য আল-হাইআতুল উলইয়ার অধীনে একটি কেন্দ্রীয় অভিযোগ গ্রহণ সেল ও হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, নূরানি, হিফজ ও আবাসিক বিভাগকে সিসিটিভির আওতায় আনা, কম বয়সী শিশুদের আবাসিক রাখাকে নিরুৎসাহিত করা, আবাসিক কক্ষের শয্যা বিন্যাসে পরিবর্তন আনা এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষকদের কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সেবা গ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চতুর্থত, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন, শিশু সুরক্ষা, শিশু মনস্তত্ত্ব ও ইসলামী নৈতিকতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগে পরিপক্ব ও বিবাহিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার এবং শিক্ষকদের জন্য পারিবারিক আবাসন ও যৌক্তিক ছুটির ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পঞ্চমত, বালিকা ও মহিলা মাদরাসার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নারীদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা, যথাসম্ভব অনাবাসিক ব্যবস্থা চালু রাখা এবং আবাসিক প্রতিষ্ঠানে কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ষষ্ঠত, পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে ওঠা মানহীন বেসরকারি মাদরাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় এনে মান নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর তদারকির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিকল্পিত নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

চিঠির শেষাংশে আহমাদুল্লাহ বলেন, এসব প্রস্তাবের সবগুলো হয়তো জাতীয় বোর্ডগুলো সরাসরি বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তবে নিবন্ধন, নীতিমালা, সচেতনতা সৃষ্টি এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি দায়িত্বশীল আলেমদের প্রতি কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য, সুনাম ও জনআস্থা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ