মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ।। ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৮


ইসলামবিরোধিতা ও আমলগত বিচ্যুতির ভিন্নতা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||

প্রতিবাদ এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে একটা বিষয় বিবেচনা করার মতো। যেমন ইসলাম বিরোধী কাজ কিংবা ইসলাম অনুমোদিত নয় এমন কাজ সম্পর্কে পদক্ষেপ। দুটি বিষয় অনেক সময় একইরকম মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে একরকম না। যেমন ধরুন গান বাদ্য গুনাহমূলক কাজ এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয় এগুলো হচ্ছে ইসলাম অনুমোদিত নয় এমন কাজ। অপরদিকে তসলিমা নাসরিনের ভাষায় সরাসরি ইসলামের বিরোধিতা করা, কোরআনের বিরোধিতা করা -এটা ঠিক ইসলাম অনুমোদিত নয় এমন কাজ না, এটা ইসলামবিরোধী কিংবা ইসলাম বিদ্বেষী কাজ। একটা হচ্ছে হারাম ও ফুজুর, আরেকটা হচ্ছে কুফুর ও ইরতিদাদ।

ইসলাম অনুমোদিত নয় কাজকে অনেক সময় সামাজিকভাবে অনৈসলামিক কার্যকলাপ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। ইসলাম অনুমোদিত নয় এমন কাজ যদি অনেক বড় পরিসরে, প্রভাব ও প্রাবল্যের সঙ্গে সামাজিকভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটাও ব্যাপক প্রতিবাদযোগ্য বিষয় হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটা ইসলাম বিদ্বেষী কিংবা সেই বিশেষ অর্থে ইসলামবিরোধী কাজ নয়। অনেক গাফেল মুসলমান দুর্ভাগ্যজনকভাবে এজাতীয় কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে। যারা মৌলিকভাবে ইসলামকে অস্বীকার করে না, নামাজ রোজা জুমা ঈদ এসবের সঙ্গে দৃশ্যমান একটা সম্পর্কও রাখে। এজন্য তাদের ভুল বিচ্যুতির প্রতিবাদ ও দাওয়াত এবং ইসলাহ সেভাবেই করা উচিত। পুরোপুরি খারিজ করে নয়, কিছুটা আপন করে শাসন করে সংশোধন করে।

তবে ইসলাম বিরোধী কিংবা ইসলাম বিদ্বেষী কাজ সেটা হচ্ছে তা যা সরাসরি ইসলামকে অস্বীকার করা কিংবা ইসলামের কোনো শেআর ও বৈশিষ্ট্যকে আঘাত করা, অপমান করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে প্রতিবাদ অনেক জোরালো হতে পারে। প্রয়োজনে শাস্তির দাবিও জানানো যেতে পারে। (এসব ক্ষেত্রেও দাওয়াত ও ইস্লাহের চেষ্টা চালু থাকবে।) কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা মুখোমুখি হয়ে গেলেও সেটা আপত্তির ব্যাপার হবে না।

এই দু'টি বিষয়কে আলাদা করা মনে হয় প্রতিবাদ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

অবক্ষয়িত মুসলিম সমাজ জীবনে অনেক রকম আমলগত বিচ্যুতি ঘটে থাকে, আল্লাহ মাফ করুন। ইসলাম অস্বীকার ও ইসলাম অবমাননা এটা যে অর্থে ইসলাম বিরোধিতা ও তীব্র প্রতিবাদের বিষয় সে অর্থে আমলগত বিচ্যুতিগুলো ইসলাম বিরোধিতা ও বিদ্বেষ নয়। এখানে তীব্র শত্রুতা, দূরত্ব, ঈমান কুফুরের মতো সংঘাত সামনে আনা মনে হয় ঠিক না।

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, বিভিন্ন হারাম-বিনোদনমূলক ব্যাপার ও আমলগত বিচ্যুতির ব্যাপারগুলো মনে হয়, অনেকটা এরকমই। এজন্য যোগ্য দাঈ ও আলেমগণ এসব ক্ষেত্রে ইসলাহ ও দাওয়াতের কথাগুলো জোরালো ভাষায় বলে থাকেন। নাস্তিক মুরতাদের সাথে যেভাবে 'সংঘাত' করতে হয় সেটা করেন না।

এটা একটা বিষয় যেদিকে খেয়াল রাখলে, বিবেচনা করে চলতে পারলে ফায়দা বেশি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উপযোগী ও সুন্দর কাজ করার তাওফিক দান করুন।

লেখক: সিনিয়র লেখক-আলোচক ও বিশ্লেষক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ