শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের ২০২৭-২৮ সেশনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে মুহাম্মাদ খলিলুর রহমানকে সভাপতি, কে এম বিল্লাল হোসাইনকে সহসভাপতি এবং এইচ এম রফিকুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল ’২৬’-এ সংগঠনটির নতুন কমিটি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারেনি। শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শ্রমব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় শ্রমিকেরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধোঁকাবাজ, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বর্জন করে শরিয়াহর পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীলদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

অটোরিকশাচালকদের প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, তাঁদের ওপর জুলুম-নির্যাতন না করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ দিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতো নয়। শ্রমিকদের আদর্শিকভাবে গড়ে তোলা, তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নে সংগঠনটি কাজ করছে।

তিনি দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, দেশজুড়ে চাঁদাবাজির কারণে সরকারের প্রতি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এসব সমস্যার সমাধান করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। অন্যথায় সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতে ৮২টি শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে কাজ করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, সমাজের সর্বস্তরের শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সব পর্যায়ের দায়িত্বশীলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ