নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে আলেম-উলামাকে নিয়ে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং পীর সাহেব দেওনা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী।
সোমবার (২৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আলেম-উলামা জাতির নৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক দিকনির্দেশনার অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁদের সম্পর্কে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শুধু আলেম সমাজকেই নয়, দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকেও গভীরভাবে আহত করে। মতভেদ থাকতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে সম্মানিত আলেমদের বিরুদ্ধে অশোভন ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, জনসমক্ষে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও রাজনৈতিক সৌজন্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য জাতি কখনো প্রত্যাশা করে না।
বিবৃতিতে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী ও অলি-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে দাঁড়িয়ে আলেম-উলামার বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ার দুঃসাহস কীভাবে দেখানো হলো—এ প্রশ্ন আজ দেশবাসীর।
তিনি লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানকে অবিলম্বে ১১ দলীয় জোট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের জন্য আলেম সমাজ ও দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে নিঃশর্তভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া আত্মমর্যাদাশীল আলেম-উলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আলেমবিদ্বেষী এ ধরনের ব্যক্তি ও তাঁর বক্তব্য সর্বাত্মকভাবে বয়কট করা উচিত।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক নেতা ও জননেতার প্রতি ভবিষ্যতে উসকানিমূলক ও অবমাননাকর বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলেম-উলামার সম্মান রক্ষা করা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।
