আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সমসাময়িক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পারিবারিক বন্ধন সুরক্ষিত রাখতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশ্ব ফতোয়া সংস্থাগুলোর মহাসচিবালয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. নজির মোহাম্মদ আইয়াদ।
সম্প্রতি মিসরের পোর্ট সাঈদ জাজেস ক্লাবে ‘বর্তমান চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মিসরীয় পরিবার’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পোর্ট সাঈদের উপ-গভর্নর প্রকৌশলী ড. আমর উসমান, জাজেস ক্লাবের সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ মুরশিদ, নির্বাহী পরিচালক বিচারপতি মোহাম্মদ আল-সাওয়াফ, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. নজির মোহাম্মদ আইয়াদ বলেন, পরিবার সমাজের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে পরিবার নিয়ে আলোচনা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তির বিস্তার এবং মূল্যবোধের সংকট পরিবারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবারকে রক্ষা করা এখন সবার যৌথ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে একটি আদর্শ পরিবার গড়ে ওঠে পারস্পরিক শান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার ভিত্তিতে। পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, দাম্পত্য জীবনে প্রথমে আসে মানসিক প্রশান্তি, এরপর পারস্পরিক ভালোবাসা এবং সবশেষে দয়া ও সহমর্মিতা—যা একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখার প্রধান ভিত্তি।
গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, পরিবার কেবল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি দৃঢ় অঙ্গীকার বা ‘মিসাক’। পরিবারগুলো সুদৃঢ় হলে সমাজে নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সময়ে মিসরীয় পরিবারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং ভুল ধারণা বা বিকৃত মতাদর্শের প্রচার। তার ভাষায়, একটি জাতির পরিচয় চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—ধর্ম, ভাষা, ইতিহাস ও মাতৃভূমি। এই চারটি উপাদান দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ড. আইয়াদ আরও বলেন, স্বাধীনতা, সহবাস, উগ্রবাদ, চরমপন্থা, নাস্তিকতা ও সমকামিতাসহ বিভিন্ন বিষয়কে আকর্ষণীয় ভাষায় উপস্থাপন করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এসব বিষয়ে ধর্মীয় বিধান ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের আলোকে সচেতন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আধুনিক প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সচেতনতা না থাকলে পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে গ্র্যান্ড মুফতি পারিবারিক জীবনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রদর্শন করে দ্রুত অর্থ ও জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রবণতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা এবং লজ্জাশীলতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা।’
সেমিনার শেষে পোর্ট সাঈদ জাজেস ক্লাবের সভাপতি বিচারপতি মোহাম্মদ মুরশিদ গ্র্যান্ড মুফতি ড. নজির মোহাম্মদ আইয়াদের হাতে ক্লাবের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। সমাজে মধ্যপন্থা, ভারসাম্যপূর্ণ ধর্মীয় চিন্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
আইও/