মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৯ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

ভারতীয় মুসলিমরা এখনই না জাগলে অধিকার নয়, পরিচয়ও হারাতে পারে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| পি মোহাম্মদ আলী ||


গভীর বেদনা ও উদ্বেগ নিয়ে আমি এই বার্তাটি লিখছি—শুধু একজন মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে নয়, বরং এমন একটি কণ্ঠস্বর হিসেবে, যা আজ আমাদের সম্প্রদায়ের নিঃশব্দ কষ্ট, অপমান ও বঞ্চনার প্রতিধ্বনি বহন করে।

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে চলতে থাকা অবমাননা, বৈষম্য ও অধিকার হরণের ভয়াবহ বৃদ্ধির সাক্ষী হচ্ছি। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার পদদলিত হচ্ছে, আমাদের সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে এবং আমাদের যুবসমাজ বিচার থেকে বঞ্চিত। আমাদের শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উপাসনালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে, পরিচয় বিকৃত করা হচ্ছে এবং আমাদের অবদানকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে। এটি কেবল অবহেলা নয়—এটি একটি পরিকল্পিত মুছে ফেলা।

এই নির্যাতনের মধ্যেও আমরা বিভক্ত—দলাদলি, মতাদর্শগত বিরোধ, ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষুদ্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আটকে আছি। যেসব নেতা আমাদের অধিকার রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, তারা নিজেদের স্বার্থে আপস করে আমাদের সম্মিলিত স্বার্থকে দুর্বল করে ফেলেছেন, যার মূল্য গোটা সম্প্রদায়কে দীর্ঘদিন ধরে দিতে হচ্ছে।

এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তি আমাদের দুর্বল করে দিয়েছে—আমাদের সহজেই প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করা যায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না। এর চেয়েও দুঃখজনক, আমাদের ভেতরের একটি ক্ষুদ্র, বিপথগামী অংশ গণতান্ত্রিক ও জাতীয় মূল্যবোধ থেকে সরে এসে আমাদের সামগ্রিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে।

এটি একটি জোরালো আহ্বান—সমস্ত মুসলিম নেতা, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক এবং বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে—যাতে তারা ব্যক্তি স্বার্থ ও মতাদর্শগত পার্থক্যকে পাশ কাটিয়ে উঠে আসেন। আমাদের এক হতে হবে—আমাদের সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব, সম্মান এবং জাতির মধ্যে আমাদের ন্যায্য অবস্থানের জন্য।

রক্ষা করতে হবে আমাদের পারিবারিক আইন, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় অধিকার। সংবিধানকে সম্মান করতে হবে, যা প্রতিটি নাগরিককে সমতা ও ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে আমাদের জনগণের অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নের জন্য। আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে—শুধু নিজের সম্প্রদায়ে নয়, অন্যান্য সংখ্যালঘু ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে একত্রে, যেন ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি।

আমরা যেন ভুলে না যাই, আমাদের ঐক্য আমাদের শক্তি। আমাদের নীরবতা আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা। যদি এখন আমরা একসঙ্গে না দাঁড়াই, তবে আমরা শুধু আমাদের অধিকারই নয়, ভবিষ্যতে আমাদের পরিচয়ও হারাতে পারি।

আমাদের দরকার নেতৃত্ব—পদ-পদবি বা সম্মানের জন্য নয়, বরং সাহস ও দূরদৃষ্টির জন্য। আমাদের দরকার ঐক্য—একরকম হবার নয়, বরং এক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধ হবার। আমাদের দরকার কাজ—আগামীকাল নয়, আজই। আল্লাহ আমাদের নেতাদের সঠিক পথ দেখান এবং আমাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করুন।
লেখক: ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি ও পিএম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।
অনুবাদ: সাইমুম রিদা।

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ