বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৩ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৯ রজব ১৪৪৭


সবার ওপরে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। আর মাসখানেক পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সেই ভোটযুদ্ধ। গত প্রায় দেড় দশক ধরে ভোট দিতে না পারা জনসাধারণ নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ইতোমধ্যে ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হবে এবং এরং মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে বলে আশায় বুক বাঁধছে গোটা জাতি।

এবারের নির্বাচনটি অন্যান্য বারের চেয়ে ভিন্ন। একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার প্রাণ আর ৩০ হাজারের বেশি মানুষের পঙ্গুত্ব বরণ ও আহতের বিনিময়ে এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এজন্য এবার শুধু গতানুগতিক নির্বাচনই নয়, একই সঙ্গে একটি গণভোটেরও আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হবে আশা করা হচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি জরুরি সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ যখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী তখন কোনো কোনো চক্র এটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ভোট যেন যথাসময়ে না হয় সে ব্যাপারে একটি গোষ্ঠী আগে থেকেই সক্রিয়। এই অবস্থায় রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। তাদের বক্তব্য ও আচরণে এমন কিছু বিষয় উঠে আসছে, যা নির্বাচনি ট্রেনের যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় মূলধারার রাজনীতিবিদদের জন্য বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে সচেতনতার পরিচয় দেওয়া।

দিনশেষে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বর্তাবে রাজনীতিবিদদের কাঁধে। তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। এজন্য যেকোনো পেশার মানুষের চেয়ে তাদের দায়িত্ব বেশি। তাদের যেকোনো দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য কিংবা কর্মকাণ্ড জাতির স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। এজন্য একজন রাজনীতিবিদকে কথা বলতে হবে মেপে মেপে। আবেগের বশে, সাময়িক উত্তেজনায় কিংবা কারও ইন্ধনে হঠকারী মন্তব্য করলে আখেরে বিপদ দেশেরই।

একটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সবার ওপরে। ক্ষমতার পালাবদল হবে, কেউ যাবে কেউ আসবে। কিন্তু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়লে কার্যত দেশ অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। নামে স্বাধীন হলেও সেই দেশ আর স্বাধীন থাকে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার। তবে সর্বাগ্রে এই দায়িত্ব পালন করে সশস্ত্র বাহিনী। এজন্য একটি দেশকে দুর্বল করতে চাইলে সশস্ত্র বাহিনীকে টার্গেট করা হয়। যারা দেশপ্রেমিক তারা কখনও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করতে পারেন না। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের।

মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জাতির গর্ব। জাতীয় যেকোনো দুর্যোগ কিংবা সংকটকালে সশস্ত্র বাহিনী গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনী যে জনবান্ধব ভূমিকা রেখেছে এবং দেশপ্রেমের যে পরিচয় দিয়েছে- তা চিরদিন মনে রাখার মতো। সুতরাং সশস্ত্র বাহিনীর গায়ে কালিমা লেপন হয় এমন যেকোনো ধরনের মন্তব্য থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন, দেশের মঙ্গল চান- তাদের এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ