কোরবানির ঈদ সামনে, অথচ কলকাতার পশুর হাটে এবার চেনা ছবিটা বদলে গেছে। গরু-মহিষের বেচাকেনা একপ্রকার নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাজারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে খাসি, ছাগল, ভেড়া আর দুম্বা। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ছোট পশুর দামও পৌঁছে গেছে রেকর্ড উচ্চতায়।
ফলে যেখানে বিক্রেতাদের মুখে হাসি, সেখানে ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর যে খাসি বা ভেড়া ১৫ থেকে ২০ হাজার রুপির মধ্যে পাওয়া যেত, এবার সেই একই মানের পশুর দাম প্রায় দ্বিগুণ। দুম্বার ক্ষেত্রেও একই ছবি—যে পশু আগে ৪০ হাজার রুপির মধ্যে বিক্রি হতো, এবার তার দাম এক লাখ রুপির গণ্ডি ছুঁয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে বাজারের হিসাব-নিকাশে। যে দামে গত বছর গরু কেনা যেত, এবার সেই দামে কিনতে হচ্ছে ছোট পশু। ফলে গরুর বাজারে মন্দা দেখা দিলেও খাসি-দুম্বার বাজার যেন জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তে।
কলকাতার তপসিয়া, রাজাবাজার, মানিকতলা খালপাড়, জাকারিয়া স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, মেটিয়াবুরুজসহ শহরের বিভিন্ন পশুর হাটে এখন উপচে পড়া ভিড়। শহরের বৃহত্তম পশুর হাট খিদিরপুরে। সেখানে ছোট পশুর কেনাবেচা এবার নজর কাড়ছে।
নাখোদা মসজিদ সংলগ্ন জাকারিয়া স্ট্রিটের বাজারে গরুর দেখা না মিললেও ছাগল, খাসি ও দুম্বার সারি চোখে পড়ছে। গত বছর যে জোড়া খাসি ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে, এবার সেই একই জোড়ার দাম এক লাখ রুপি ছাড়িয়ে গেছে। আবার গত বছর এক জোড়া দুম্বা যে দামে পাওয়া যেত, এবার সেই দামে মিলছে একটি দুম্বা।
উত্তর ২৪ পরগনা থেকে ৫০টি খাসি নিয়ে আসা বিক্রেতা কুতুব আলির কথায়, “এবার বাজার ভালো। গরুর চাহিদা কমে যাওয়ায় খাসির বিক্রি বেড়েছে। গত বছর যে পশু ২০ হাজারে বিক্রি হয়েছে, এবার সেটাই ৫০ হাজার রুপিতে যাচ্ছে।”
উত্তরপ্রদেশ থেকে দুম্বা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সুলেমানও একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তিনি বলেন, “১০০টি দুম্বা এনেছিলাম। বেশিরভাগই এক লাখ রুপির বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। বাকি গুলোও শেষ হয়ে যাবে।”
তবে এই বাড়তি দাম ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছোট পশুর বাজারে যেন ‘অগ্নিমূল্য’ চলছে। এক ক্রেতার কথায়, “দুটি ভালো জাতের ছাগল কিনতে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি দিতে হয়েছে। এই টাকায় আগে জোড়া গরু পাওয়া যেত।”
পরিবার নিয়ে পশুর হাটে আসা শাহিদ বলেন, “গরু না পাওয়ার কারণেই খাসির দাম এত বেড়েছে। একটা খাসির জন্য ৫০ হাজার রুপি চাইছে। দাম কমানোর কথা বললেও বিক্রেতারা শুনছেন না।”
সব মিলিয়ে, কোরবানির আগে কলকাতার পশুর হাটে এবার উল্টো ছবি—গরুর বাজারে ভাটা। বাজারে সারি সারী পড়ে রয়েছে গরু। তবু কেউ কিনছে না। আর ছোট পশুর বাজারে জোয়ার। আর সেই জোয়ারের ঢেউ গিয়ে লাগছে সরাসরি ক্রেতাদের পকেটে।
জেডএম/