|| রিদওয়ানা নূর ||
খ্যাতিমান লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা জুবাইর আহমদ আশরাফ পারিবারিক জীবনেও ছিলেন একজন সফল মানুষ। শত ব্যস্ততার পরও তিনি পারিবারিক সব দায়িত্ব পালন করতেন অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে। আত্মীয়তার হক আদায়ের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। তাঁকে একজন আদর্শ স্বামীর সার্টিফিকেট দিয়েছেন খোদ জীবনসঙ্গিনী দিরওয়ানা নূর। তুলে ধরেছেন তাঁর ঘরোয়া জীবনের নানা দিক। লেখকপত্রের লিখিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মাওলানা জুবাইর আহমদ আশরাফ রহ.-এর সহধর্মিনী।
লেখকপত্র: মাওলানা জুবাইর আহমদ আশরাফ সাহেবকে আপনি সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন, তাঁর কোন গুণগুলো আপনাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে?
রিদওয়ানা নূর: মাওলানা জুবাইর আহমদ আশরাফ সাহেবকে ঘিরে আমার যে স্মৃতি, তা কেবল একজন জীবনসঙ্গীর নয়, বরং এক আদর্শ পথপ্রদর্শকের। তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে বড় উজ্জ্বলতা ছিল তাঁর অসীম ধৈর্য আর অল্পেতুষ্টি। এই কৃত্রিম দুনিয়ায় তিনি ছিলেন একজন অতি সাধারণ এবং নিরহংকার মানুষ; তাঁর সেই শুভ্র সরলতাই ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠ ভূষণ।
তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা আর সত্যের পথে হিমালয়ের মতো অবিচল থাকা আমাকে বারবার মুগ্ধ করত। বাতিলের সামনে তিনি কখনো মাথা নত করেননি, আবার ন্যায়ের প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। তিনি কেবল ঘরের চারদেয়ালে আমার জন্য একজন আদর্শ স্বামী ছিলেন না, বরং বাইরের জগতের মানুষের কাছেও ছিলেন এক অতন্দ্র পরোপকারী বন্ধু। অন্যের বিপদে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার যে অদম্য স্পৃহা তাঁর ছিল, মানুষের প্রতি সেই গভীর দায়বদ্ধতা, আমি আজও নিজের ভেতরে লালন করি।
জীবনের খুব সাধারণ আর ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোকেও তিনি যেভাবে অসামান্য আনন্দ দিয়ে রাঙিয়ে নিতেন, তা আমাকে শিখিয়েছে জীবনকে গভীরভাবে ভালোবাসতে। কঠিন অভাবের দিনগুলোতেও যখন আমাদের জীবন কিছুটা সংকটে পড়ত, তখনও তাঁর চেহারায় আমি এক অলৌকিক তৃপ্তির ছাপ দেখেছি। তাঁর সেই নির্মল হাসি আর প্রশান্তি ছিল প্রকৃত ঈমানের এক অনন্য পরিচয়। তিনি শিখিয়েছেন, সুখ আসলে সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং হৃদয়ের কৃতজ্ঞতায় বাস করে। আজ তিনি নেই, কিন্তু তাঁর সেই মুগ্ধকর গুণাবলি আর জীবনদর্শন আমার নিঃসঙ্গ পথচলার একমাত্র পাথেয় হয়ে আছে।
লেখকপত্র: স্ত্রী ও সন্তানদের হক আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি কতটা সচেতন ছিলেন?
রিদওয়ানা নূর: পারিবারিক অধিকার আর আমানত রক্ষার বিষয়ে তিনি ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল আর শাসন ও আদবের জায়গায় অত্যন্ত কঠোর। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন—দুনিয়াতে যে মানুষটি নিজের ঘরের মানুষের কাছে ভালো, সেই প্রকৃত ভালো; আর যে নিজের পরিবারের হক আদায়ে যত্নবান, সেই মহান আল্লাহর কাছে প্রিয়।
সারাদিনের অতি ব্যস্ততা, হাজারো মানুষের ভিড় আর দীনি কাজের শত চাপের মাঝেও আমাদের খেদমতে তিনি কখনো কোনো কমতি করেননি। ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরলেও তাঁর চেহারায় বিরক্তির লেশমাত্র ছিল না, বরং আমাদের হাসি দেখার জন্য তিনি উন্মুখ থাকতেন। সন্তানদের সুশিক্ষার পাশাপাশি তাদের ভেতরে নৈতিকতার বীজ বুনে দিতে এবং সুন্দর চারিত্রিক গঠন নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন আপসহীন। তাঁর ছায়াতলে আমরা যে নিরাপত্তা আর মায়া পেয়েছি, তা ছিল আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। তাঁর এই আদর্শই আজ আমাদের সন্তানদের সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথে প্রধান পাথেয়।
লেখকপত্র: তাঁর লেখালেখি ও সাহিত্য চর্চায় আপনার অনেক সহযোগিতা ছিল। এর জন্য তিনি আপনার প্রতি কতটা কৃতজ্ঞ ছিলেন?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে আমার ক্ষুদ্রতম অবদানের প্রতিও তাঁর যে বিরল কৃতজ্ঞতা ছিল, তা ভাবলে আজ চোখের কোণে জল চলে আসে। তিনি যখনই নতুন কোনো পা-ুলিপি বা লেখা শুরু করতেন, আমাদের সাথে নিয়ে বসতেন এবং পুরোটা পড়ে শোনাতেন। আমি সাধারণ একজন মানুষ হয়েও কোনো পরামর্শ দিলে তিনি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শুনতেন এবং প্রয়োজনে সংশোধন করে নিতেন। তাঁর মাঝে পা-িত্যের কোনো অহংকার ছিল না, ছিল শেখার এক অদম্য আগ্রহ।
তিনি প্রায়ই খুব নরম সুরে বলতেন—‘তুমি যদি এভাবে শক্ত হাতে ঘর না সামলাতে, তবে আমার পক্ষে এই কলম ধরার কোনো ফুরসতই মিলত না।’ আমার সামান্যতম ত্যাগের কথাও তিনি খুব কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করতেন। যদিও আমি তাঁর জীবনে আসার অনেক পূর্ব থেকেই তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক ও গবেষক ছিলেন, তবু প্রতিটি সাফল্যের শেষে তিনি আমার অবদানের কথা স্মরণ করতেন। তাঁর এই কৃতজ্ঞতাবোধই আমাকে তাঁর কাজকে নিজের কাজ হিসেবে আপন করে নিতে প্রেরণা জোগাত। আজ তাঁর প্রতিটি বইয়ের পাতায় আমি তাঁর সেই মায়া আর কৃতজ্ঞতার ছোঁয়া খুঁজে পাই।
লেখকপত্র: তাঁর দৈনন্দিন রুটিন কী ছিল? পরিবারকে কতটুকু সময় দিতেন?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর প্রতিটি দিন শুরু হতো ফজরের স্নিগ্ধতায় এবং পবিত্র সুরা ইয়াসিনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে। দিনের একটা বিশাল অংশ মাদরাসা ও দীনি খেদমতে ব্যয় হলেও ঘরে ফেরার পর তিনি অলস সময় কাটাতেন না। বরং দীর্ঘ সময় গভীর মগ্নতায় কিতাব মুতালায়া এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ বই-পুস্তক পড়াশোনায় ডুবে থাকতেন। তাঁর সেই পড়ার টেবিলটি ছিল আমাদের কাছে এক জীবন্ত পাঠাগারের মতো।
রাতের বেলা যখন আমরা খাবারের দস্তরখানে বসতাম, তখন তিনি আমাদের অনেক মূল্যবান নসিহত শোনাতেন। সেই সময়টুকু ছিল আমাদের পরম পাওয়ার—যেখানে জীবন আর পরকালের কঠিন পাথেয়গুলো তিনি খুব সহজ করে আমাদের বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর আমল আর আখলাক ছিল আমাদের পুরো পরিবারের জন্য এক পথপ্রদর্শক আলোকবর্তিকা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আর দীনি অনুশাসনের প্রতি তাঁর যে অবিচল নিষ্ঠা ও একাগ্রতা ছিল, তা আমাদের ঘরকে এক অপার্থিব পবিত্র প্রশান্তি আর পরম সুকুন দান করেছিল। তিনি কেবল আমাদের শাসন করতেন না, বরং নিজের আমল দিয়ে আমাদের পথ দেখাতেন।
লেখকপত্র: তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের বিষয় কী ছিল?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর জীবন ছিল সাদাসিধে আর অমলিন এক পবিত্রতার প্রতিচ্ছবি। তিনি খুব সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করতেন; আভিজাত্য বা বিলাসিতা তাঁকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। খাবারের বিষয়ে তাঁর কোনো অভিযোগ বা বায়না ছিল না। দস্তরখানে যা-ই রাখা হতো, তিনি হাসিমুখে তাই পরম তৃপ্তি সহকারে গ্রহণ করতেন। তবে এক জায়গায় তিনি ছিলেন অনড়—তা হলো পরিচ্ছন্নতা। রুচি আর পবিত্রতার এক অপূর্ব সমন্বয় ছিল তাঁর পোশাকে ও কাজেকর্মে।
তিনি প্রচুর অপছন্দ করতেন অনর্থক সময় নষ্ট করা এবং সালাতে বা নামাজে বিলম্ব হওয়া। তাঁর কাছে সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য আমানত। আরেকটি বিষয় যা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত, তা হলো গিবত বা পরনিন্দার প্রতি তাঁর অনীহা। কেউ যদি ভুলবশত তাঁর সামনে কারো নিন্দা শুরু করত, তিনি খুব কৌশলে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিতেন যেন মজলিসটি গোনাহ থেকে বেঁচে যায়। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন ও বলতেন—‘অন্যের দোষ চর্চা না করে নিজের কাজে মনোযোগী হওয়া এবং নিজের ত্রুটি সংশোধন করাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।’ তাঁর এই জীবনবোধ আমাদের জন্য এক পরম শিক্ষা।
লেখকপত্র: সাধারণত কখন লিখতেন? তাঁর পড়ার অভ্যাস সাধারণত কেমন ছিল?
রিদওয়ানা নূর: পড়ার প্রতি তাঁর যে প্রবল নেশা ছিল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। গভীর রাত পর্যন্ত প্রদীপের আলোয় তিনি কিতাব মুতালায়া করতেন; মনে হতো কিতাবের অক্ষরগুলোর সাথে তাঁর এক আত্মার সখ্য গড়ে উঠেছে। সাধারণত শেষ রাতে এবং ফজরের পর যখন প্রকৃতি একদম শান্ত থাকত, সেই নির্মল ও নিরিবিলি পরিবেশে তিনি লিখতে বসতেন। পড়াশোনার সময় তাঁর মগ্নতা এতোই গভীর ছিল যে, পাশে দাঁড়িয়ে ডাকলেও তিনি অনেক সময় টের পেতেন না। আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে কৌতুক করে বলতাম—‘এই যুগে সবাই যখন স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকে, আপনি কীভাবে দিন-রাত এই সেকেলে বই-পুস্তক নিয়ে পড়ে থাকেন?’ তিনি তখন এক মৃদু হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকাতেন।
এমনকি কোথাও দু-এক দিনের জন্য বেড়াতে গেলেও তিনি কিছু কিতাব সাথে নিতে ভুলতেন না। আমি যখন বলতাম এতো কিতাব সাথে নেওয়ার কী দরকার, তিনি খুব সহজভাবে বলতেন—‘কিতাব ছাড়া আমার সময় কাটবে কীভাবে? এগুলোই তো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী।’ আজ তাঁর সেই শূন্য পড়ার টেবিল আর তাকে সাজানো কিতাবগুলো দেখলে বারবার মনে হয়—এমন জ্ঞানপিপাসু মানুষ সচরাচর দেখা যায় না। তাঁর সেই নিরলস সাধনা আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
লেখকপত্র: আপনার বা সন্তানদের প্রতি তাঁর বিশেষ কোনো নসিহতের কথা মনে পড়ে কি?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর প্রতিটি কথা ছিল আমাদের জীবনের পাথেয়। তিনি সবসময় একটি মূল্যবান কথা বলতেন, যা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে—‘আলেম হওয়ার আগে মানুষ হও।’ তাঁর কাছে পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে মনুষ্যত্ব আর চারিত্রিক মাধুর্যের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। সন্তানদের প্রতি তাঁর সবচেয়ে বড় নসিহত ছিল সর্বদা সত্য বলা এবং আমানতদারি রক্ষা করা। তিনি প্রায়ই স্মরণ করিয়ে দিতেন যে, এই দুনিয়া অতি ক্ষণস্থায়ী একটি মুসাফিরখানা; তাই আমাদের প্রতিটি কাজ যেন কেবল আখেরাতের কল্যাণের কথা ভেবেই করা হয়।
তাঁর প্রাত্যহিক জীবনেও নসিহতের কোনো কমতি ছিল না। সময়মতো নামাজ পড়া, প্রতিদিন নিয়ম করে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা এবং অযথা সময় নষ্ট না করার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। জ্ঞানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতোটাই ছিল যে, নতুন কোনো বই বাসায় আনলে তিনি আমাকে দিয়ে বলতেন—‘একবার হলেও অন্তত পড়ো, আর কঠিন শব্দগুলো আলাদা করে টুকে রাখবে।’
দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিনগুলোতে আমার প্রতি তাঁর মমতামাখা শাসনের কথা আজও খুব মনে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে আমার জন্য কিছু বিশেষ নির্দেশনা থাকত। একটি ডায়েরি হাতে দিয়ে খুব দরদমাখা কণ্ঠে বলতেন—‘পুরো সপ্তাহে এই বইগুলো পাঠ করবে এবং অজানা বা কঠিন শব্দগুলো নোট করে রাখবে। পরবর্তী সময়ে অভিধান দেখে সেগুলো শুদ্ধ করে নেবে।’ তিনি চাইতেন আমি যেন ভুল উচ্চারণ বা অশুদ্ধ পাঠ থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারি। তাঁর এই ছোট ছোট নির্দেশনাগুলোই আজ আমাকে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।
লেখকপত্র: স্বামী হিসেবে কোন গুণগুলোর জন্য তিনি সেরা ছিলেন বলে আপনি মনে করেন?
রিদওয়ানা নূর: স্বামী হিসেবে অনন্য গুণ ছিল তাঁর ক্ষমাশীলতা ও সেবাপরায়ণতা। তিনি পরিবারের কারও কাছ থেকে সেবা নেওয়ার চেয়ে সেবা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। আমার অসুস্থতায় তিনি নিজেই পরম মমতায় আমার খেদমত করতেন। তাঁর এই অসীম ধৈর্য, অমলিন হাসি আর সম্মানবোধই তাঁকে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ স্বামী হিসেবে অমর করে রেখেছে। জীবনের কঠিন সময়ে তিনি বটবৃক্ষের মতো আমাকে আগলে রেখেছেন। আমাদের ছোট ছোট সাধারণ সুখের মুহূর্তগুলোই আজ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
তিনি ছিলেন আমার জন্য এক ‘চলন্ত লাইব্রেরি’। দীনি মাসয়ালা-মাসায়েল বা যেকোনো ইলমি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেই তিনি তৎক্ষণাৎ সমাধান বলে দিতেন। এমনকি আমি যখন শিক্ষার্থীদের পড়ানোর প্রস্তুতি নিতাম, কোনো কঠিন বিষয় বুঝতে না পারলে তিনি এতো সহজ ও সাবলীলভাবে হাওয়ালাসহ বুঝিয়ে দিতেন যে, আমার আর কোনো বেগ পেতে হতো না। বাসায় না থাকলেও দরস চলাকালীন যেকোনো সমস্যার সমাধানে ফোন দিলে তিনি নিমিষেই তা পরিষ্কার করে দিতেন। মনে হতো, আমার প্রশ্নের উত্তর তাঁর কাছে আগে থেকেই তৈরি ছিল। আল্লাহ পাক তাঁকে অগাধ ইলম দান করেছিলেন। তাঁর বিদায়ের পর এই জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ভরতা হারানোই এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা।
লেখকপত্র: আত্মীয়-স্বজনের হক আদায়ের ক্ষেত্রে তিনি বেশ সচেতন ছিলেন বলে জেনেছি। দুই-একটি ঘটনা বলবেন?
রিদওয়ানা নূর: আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার বিষয়ে তাঁর যে ব্যাকুলতা ছিল, তা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন এক পরম মমতাময়ী আশ্রয়। অনেক দূরে থাকা যে আত্মীয়দের কাছে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব হতো না, তাদের জন্য তাঁর মনটা সবসময় পড়ে থাকত। শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়ম করে ফোনে তাদের খোঁজ নিতেন; এক মুহূর্তের সেই আলাপটুকুর ভেতরেও মিশে থাকত গভীর আন্তরিকতা।
বিশেষ করে কারও অসুখ-বিসুখের কথা শুনলে তিনি আর স্থির থাকতে পারতেন না। পরিচিত বা আত্মীয়, কে আপন কে পর, সেই ভেদাভেদ তাঁর কাছে ছিল না। কতবার দেখেছি, মানুষের কষ্টের কথা শুনে তিনি নিজেই ছুটে গেছেন ডাক্তারদের কাছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতালের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, হাড়কাঁপানো শীত কিংবা অঝোর বৃষ্টিতে ভিজেও তিনি অন্যের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নিজের শরীরের ক্লান্তি বা আরামের কথা একবারও ভাবতেন না। অন্যের মুখে হাসি ফোটানো আর অসুস্থ মানুষের সেবা করার মাঝেই তিনি যেন নিজের জীবনের প্রশান্তি খুঁজে পেতেন।
অনেক সময় হয়তো কাক্সিক্ষত অর্থ দিয়ে সাহায্য করার সামর্থ্য থাকত না, কিন্তু তিনি দমে যেতেন না। নিজের হাড়ভাঙা শ্রম আর সময় দিয়ে সেই অভাব পূরণ করে দিতেন। কারও জন্য দৌড়ঝাঁপ করা, কারও বোঝা বয়ে দেওয়া কিংবা পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগানো—শ্রমের মাধ্যমে উপকার করার এই মানসিকতা তাঁকে অনন্য করে তুলেছিল। এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগের গল্প একটি বা দুটি নয়, তাঁর জীবনের পাতায় পাতায় এমন অসংখ্য মায়ার গল্প ছড়িয়ে আছে, যা লিখে শেষ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
লেখকপত্র: তাঁর সঙ্গে আপনার দাম্পত্য জীবন কত বছরের? তাঁর কোন স্মৃতিগুলো আজও ভুলতে পারেন না?
রিদওয়ানা নূর: স্মৃতি বড় অদ্ভুত এক জিনিস; কখনো তা হাসায়, কখনো চোখের কোণে অজান্তেই জল এনে দেয়। আজ যখন খাতা-কলম নিয়ে বসি কিছু লিখব বলে, তখন বারবার মনে পড়ে সেই মানুষটির কথা—যিনি দীর্ঘ পথচলায় ছিলেন আমার ছায়া, আমার সাহস, আমার স্বামী, আমার পরম বন্ধু। যাঁকে হারানোর শূন্যতা কোনো শব্দ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়।
সেই ২০০০ সালের শুরু; জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল যাঁর হাত ধরে। আজ পঁচিশ বছর পর সেই মানুষটি নেই—একথা ভাবতেই বুকটা এক অজানা হাহাকারে ভরে ওঠে। মৃত্যু চিরন্তন সত্য, কিন্তু আড়াই দশকের এক নিবিড় পথচলা যখন হঠাৎ থেমে যায়, তখন চারপাশটা বড্ড অচেনা মনে হয়। আমার স্বামী কেবল আমার জীবনসঙ্গী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার জীবনের সেই পরম আশ্রয়, যাঁর ছায়ায় আমি ২৫টি বছর নিশ্চিন্তে কাটিয়েছি। সংসার মানেই তো কেবল সুখের ভেলা নয়; রোদ-বৃষ্টি, আনন্দ-বেদনা আর অভাব-অনটনের এক অম্লমধুর কাব্য।
আমাদের এই দীর্ঘ যাত্রায় কত ঝড় এসেছে, কত নির্ঘুম রাত কেটেছে দুশ্চিন্তায়, কত সহস্র প্রতিকূলতা আমাদের পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রতিটি দুঃসময়ে তিনি ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল। আমার চোখের জল মোছাতে তিনি কখনো দ্বিধা করেননি। নিজের কষ্টকে আড়াল করে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলতেন—‘আল্লাহ ভরসা, ঠিক হয়ে যাবে।’ তাঁর এই শান্ত কণ্ঠস্বর আজও আমার কানে প্রতিধ্বনিত হয়। ২০০০ সাল থেকে ২০২৫, দীর্ঘ ২৫ বছর তিনি আমাকে যেভাবে আগলে রেখেছেন, তা কোনো সাধারণ ভালোবাসা ছিল নাÑছিল এক ঐশ্বরিক বন্ধন।
আমার জীবনের প্রতি ধাপে তিনি ছিলেন আমার প্রধান সেনাপতি। আজ যখন তিনি পরপারে, তখন অনুভব করি আমার মাথার ওপর থেকে বটবৃক্ষটি সরে গেছে। আমাদের জীবনের কিছু সুন্দর মুহূর্ত ছিল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। সেই ভ্রমণগুলো কেবল বিনোদন নয়, ছিল আল্লাহর সৃষ্টিকে চেনা এবং একে অপরের সান্নিধ্যকে উদযাপন করা। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে তিনি বারবার স্রষ্টার মহিমা গাইতেন। পাহাড়ে-সমুদ্রের ধারে তাঁর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আজ আমার নিঃসঙ্গ জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয়।
লেখকপত্র: আপনার স্বামীর বিশেষ কোনো অসিয়ত আছে কি?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর প্রধান অসিয়ত ছিল দীনের ওপর অবিচল থাকা। সন্তানদের তিনি বারবার এই পরম সত্যটি মনে করিয়ে দিতেন যে, দুনিয়া এক ক্ষণস্থায়ী সরাইখানা। তাঁর শেষ দিনগুলোতে তিনি যখন তাঁর অসমাপ্ত কিতাবগুলোর দিকে তাকাতেন, তাঁর চোখে এক অদ্ভুত আকুতি দেখতে পেতাম। তিনি নিচু স্বরে বলতেন, ‘আমার কলম যেন মাঝপথে থেমে না যায়, এই কাজগুলো শেষ করতে পারলে আমি নিশ্চিন্তে রবের দরবারে হাজির হতে পারতাম।’
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্নগুলো আমাদের কাঁধে এক পবিত্র আমানত হয়ে আছে। তাঁর প্রতিটি অসিয়ত আমাদের হৃদয়ে কান্নার মতো বাজে। একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি যা চেয়েছেন, সেই অসিয়তটুকু জীবনের বিনিময়ে হলেও সঠিকভাবে পূর্ণ করার সাধ্যমতো চেষ্টা আমরা করছি। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করাই এখন আমাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আল্লাহ পাক যেন আমাদের এই তাওফিক দেন, যেন আমরা তাঁর নেক দোয়ার ফসল হয়ে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে থাকতে পারি। আমিন।
লেখকপত্র: শেষ মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় আপনি তাঁর সঙ্গী ছিলেন। সেই সময়ের স্মৃতিটুকু সংক্ষেপে বলবেন কি?
রিদওয়ানা নূর: সেই দিনটি ছিল ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২৭ রজব, শনিবার। বেফাক পরীক্ষার প্রথম দিন। কেন্দ্র থেকে বেলা ১১টায় বাসায় ফিরলেন। সকাল থেকেই আকাশে এক অদ্ভুত মায়াভরা রোদ ছিল। তিনি হালকা নাস্তা সারলেন, ঠিক তখনই এক শান্ত স্বরে বললেনÑ ‘আমার বুকটা কেমন যেন ভার হয়ে আসছে, হাত দুটোও খুব অবশ লাগছে।’ আমি আর আমার বড় মেয়ে অস্থির হয়ে প্রেশার মেপে দেখলাম সব স্বাভাবিক।
ডাক্তার ডাকার কথা বলতেই তিনি চিরচেনা সেই শান্ত গলায় বাধা দিলেন। বললেন, ‘ঘাবড়াবার কিছু নেই, দোয়া পড়ে একটু ফুঁ দাও তো, সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বারবার আমাদের আশ্বস্ত করছিলেন আর বলছিলেন—‘আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দাও, ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে।’ এর কিছুক্ষণ পর তিনি যেন একটু সুস্থ বোধ করলেন। আমাকে নরম স্বরে বললেন, ‘তুমি এখানে একটু বসো।’ বলেই পরম শান্তিতে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে পড়লেন। দুপুর পৌনে একটায় যখন চোখ মেললেন, উঠে অজু করে পরম নিষ্ঠার সাথে নামাজ আদায় করলেন। আমি কিছু খেতে বলতেই সেই শেষবারের মতো বললেনÑ ‘আমি আসছি, এসেই খাব।’
এরই মাঝে ডাক্তারের সাথে কথা হলো। ফোনের ওপাশ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল যেন দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়। দেখলাম তাঁর চোখেমুখে এক অদ্ভুত চিন্তার রেখা। আমি ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করলামÑ ‘কাউকে কি খবর দেব? ডাক্তারের কাছে কি এখনই নিয়ে যাব?’ তিনি বারবার মাথা নেড়ে না করলেন। আমাদের আগলে রেখে বললেন ‘তোমরা বৃথা ভয় পেয়ো না।’ মেয়েকে বললেন ‘তোমার মাকে একটু খেতে দাও।’ আমি তাঁর অস্থিরতা দেখে বুক ফেটে যাওয়া কান্না চেপে বললাম, ‘আপনার এই অবস্থা দেখে আমার খুব ভয় লাগছে।’ তিনি ম্লান হেসে বললেন, ‘আমি ভালো আছি, কোনো অসুবিধা নেই।’ এ কথা বলতে বলতেই তাঁর ঠোঁট দুটি ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ গুঞ্জনে কেঁপে উঠছিল।
হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমি একা ছাড়তে চাইছিলাম না। তিনি বারবার বাধা দিয়ে এক পর্যায়ে বললেন ‘চলো, তবে চাবি বা মোবাইল সাথে কিছুই নিও না। আমি যখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলাম, তিনি হঠাৎ বললেন ‘আমার রুমালটা নিয়ে এসো তো। কেন, জিজ্ঞাসা করতেই এক অমোঘ সত্যের সুরে বললেন, ‘রুমালটা থাকলে আমাকে ধরতে সুবিধা হবে। আমি তখনো বুঝিনি, এই কথাটির আড়ালে লুকানো ছিল তাঁর চিরতরে আমায় ধরার শেষ আকুতি।
হাসপাতালে যাওয়ার পথেও তিনি ছিলেন আশ্চর্য রকমের শান্ত। সেই কঠিন সময়েও তিনি আমাদের পরম মমতায় মানুষকে চেনার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। যখন টিকিট কাউন্টারে পৌঁছালাম, তাঁর কথা জড়িয়ে আসছিল, মুখটা অবশ হয়ে যাচ্ছিল। কাউন্টারের লোকটি যখন হুইলচেয়ার আনতে চাইলেন, তিনি তখনও তাঁর সাহস অটুট রেখে বললেন ‘আমি সুস্থ আছি, হেঁটেই চলি।
মাত্র দশটি কদম হেঁটেছিলেন। হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন ‘আমাকে একটু শক্ত করে ধরো। আমার বাম হাতটা টেনে নিজের বুকের ওপর রাখলেন, আর আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তাঁর ডান হাতটা কবজি চেপে ধরলাম। তিনি স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। আমি কাঁপানো স্বরে জিজ্ঞাসা করলাম ‘খুব কি খারাপ লাগছে? কাউকে ডাকব? তিনি নিঃশব্দে না করলেন। আমার সাথে হাঁটতে হাঁটতেই এক সময় ক্লান্তির চরম সীমায় পৌঁছে তিনি আমার কাঁধে মাথাটা এলিয়ে দিলেন। আমি আর ভার সইতে না পেরে সেখানেই তাঁর মাথাটা আমার হাতে নিয়ে বসে পড়লাম।
ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল সাড়ে তিনটা ছুঁইছুঁই। তাঁর সেই শেষ বিদায়ের চাহনি—আহ! যা আজও আমার হৃদয়ে অঝোর ধারায় রক্তক্ষরণ ঘটায়। কিন্তু তাঁর সেই প্রশান্ত মুখচ্ছবি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন তাঁর রবের ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য আজীবন এভাবেই প্রস্তুত ছিলেন। তৃষ্ণার্ত কণ্ঠে আমি পাশ দিয়ে যাওয়া এক পথচারীর কাছে একটু পানি চাইলাম। পানির বোতলটি হাতে নিয়ে তাঁর মুখে কয়েক ফোঁটা পানি দিলাম। প্রথমবার গড়িয়ে পড়ল, দ্বিতীয়বার সেই তৃষ্ণার পানি পান করেই আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরলেন। তারপর খুব ধীর স্বরে শুধু বললেন ‘আল্লাহ’।
ব্যস, সেটুকুই। কোনো ছটফটানি নেই, কোনো মরণ-যন্ত্রণা নেই; পরম মমতায় একটি ছোট্ট শিশু যেমন মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়ে, তিনি ঠিক সেভাবেই চোখ দুটো বুজলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি এক না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। মৃত্যু হয়তো তাঁর রক্ত-মাংসের শরীরটাকে আমার পাশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে, কিন্তু তাঁর সেই শেষ হাতের স্পর্শ আর মায়াবি স্মৃতিগুলো আজও আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে। আত্মার সেই নিবিড় বন্ধন কি আর মৃত্যু দিয়ে ছিন্ন করা যায়?
লেখকপত্র: মাওলানা জুবাইর আহমদ আশরাফ সাহেবের বইপত্রগুলো নিয়ে আপনি বা আপনার সন্তানদের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
রিদওয়ানা নূর: তাঁর জীবন ছিল কিতাব আর ইলমের সাথে এক অবিচ্ছেদ্য মিতালি। তাই তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর রেখে যাওয়া বইপত্র এবং পান্ডলিপিগুলো এখন আমাদের কাছে শুধু স্মৃতি নয়, বরং এক পবিত্র আমানত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো অত্যন্ত যত্নসহকারে সম্পন্ন করা। তিনি যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি, সেগুলো সুযোগ্য আলেমদের তত্ত্বাবধানে পূর্ণতা দিয়ে প্রকাশের ব্যবস্থা করা এখন আমাদের সময়ের দাবি।
এছাড়া তাঁর যে কিতাবগুলো ইতঃপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো যেন সাধারণ পাঠক ও তালিবে ইলমদের কাছে সহজেই পৌঁছে যায় এবং সবসময় সহজলভ্য থাকে, সে লক্ষ্যে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সন্তানদের হৃদয়ে বাবার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক ব্যাকুল ইচ্ছা আছে; তারা চায় তাঁর নামে একটি স্মারক পাঠাগার অথবা একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করতে।
এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি নাম হবে না, বরং এটি হবে তাঁর আজীবনের ‘ইলমি খেদমত’ বা জ্ঞানসেবার একটি স্থায়ী কেন্দ্র। যেখান থেকে তাঁর চিন্তাধারা, গবেষণা এবং দীনি শিক্ষাগুলো কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানের আলো যুগ যুগ ধরে পথহারা মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেবে। এই কঠিন পথচলায় আমরা কেবল মহান আল্লাহর সাহায্য এবং আপনাদের সবার দোয়া প্রার্থী। আল্লাহ পাক যেন আমাদের এই স্বপ্নগুলোকে কবুল করেন এবং তাঁর এই ইলমি উত্তরাধিকারকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
সৌজন্যে: লেখকপত্র [লেখা ও লেখকের কথা নিয়ে প্রকাশিত জহির উদ্দিন বাবর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক সাময়িকী]
আইও