সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

গর্ভবতী স্ত্রী রেখে জানাযায় শরীক হলে কি সন্তানের ক্ষতি হয়?


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

 

বর্তমান সমাজে কিছু কুসংস্কার প্রবেশ করেছে, যেগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে শিরক এবং কুফুরির দিকে নিয়ে যায়। মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্টকারী কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। প্রচলিত এসব কুসংস্কারের কারণে আল্লাহর ওপর আস্থা ও তার রহমতের প্রতি নির্ভরতা কমে যায়; চিরাচরিত ধর্মবিশ্বাসে চিড় ধরে।

কুসংস্কার হলো ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরের প্রচলিত নিয়মবিধি- যার প্রতি মানুষ অন্ধবিশ্বাস স্থাপন করে সেই বিশ্বাসকে ভিত্তি করে জীবনে চলার চেষ্টা করে। কুসংস্কারজনিত অন্ধবিশ্বাসে পড়ে মানুষ নিজেদের ঈমানকে দুর্বল করে তুলছে। বস্তুত মুসলমানের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসাই যথেষ্ট। ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী প্রচলিত এসব বর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্যকর্তব্য। এছাড়া কুসংস্কার বন্ধের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো সবার ঈমানি দায়িত্ব। কুসংস্কার প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই; শুভ–অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। পেঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই। বোখারী শরীফ- ৫৩৪৬।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, শুভ–অশুভে বিশ্বাস হল শিরকের অন্তর্গত আমাদের এমন কেউ নেই যার এই ওয়াসওয়াসা আসে না। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তা বিদুরিত করে দেন।- ইবনে মাজাহ ৩৫৩৮

প্রচলিত একটি কুসংস্কার  পাঠকের সামনে তুলা ধরা হল-

এক ব্যক্তির বাবার জানাযা অনুষ্ঠিত হল। কিন্তু দেখা গেল, জানাযার নামাযের সময় সে শরীক না হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, তার স্ত্রী গর্ভবতী, তাই সে জানাযায় শরীক হতে পারবে না। এতে নাকি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবে! সে এটাও জানালো যে, বাড়ির মহিলারা তাকে এটি বলেছে এবং জানাযায় শরীক হতে নিষেধ করেছে। তেমনি সে এলাকায় প্রচলিত আছে, গর্ভবতী নারীর স্বামী হাঁস-মুরগি জবাই করতে পারবে না; এতে সন্তান ঠোঁটকাটা বা নাককাটা হবে। এগুলো সবই অমূলক ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার। এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।

এছাড়া এলাকাভেদে আরও অনেক কুসংস্কারের প্রচলন রয়েছে। আমাদের উচিত এসব কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রচলিত এ সব কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। 

এমআই/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ