শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

ঈদে মিলাদুন্নবী কি আসলেই ‘ঈদ’?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আব্দুল্লাহ আল মারুফ:

মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ তা'আলা দুটো ঈদ দিয়েছেন। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আযহা। তৃতীয় কোন ঈদের কথা কোরআন-সুন্নায় পাওয়া যায় না।

হাদিস শরীফে এসেছে, আনাস (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করলে দেখলেন, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহিলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কুরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ”। (আবূ দাঊদ, ১১৩৬)

সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়ালকে ঈদে মিলাদুন্নবী বলা ইসলামী শরীয়ার মধ্যে নতুন সংযোজন, যা একটি গর্হিত কাজ। এ ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মীয় ব্যাপারে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য।(মুসলিম-৪৩৪৩)

রবিউল আওয়াল মাসে যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন তেমনি এ মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এ মাস সুখ দুঃখের, নয় শুধু সুখের। এ বিষয়টিও ঈদে মিলাদুন্নবী নামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটা ভালবাসার পরিচয় নয়। ভালোবাসা হলো হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক। অন্তরের সাথে অন্তরের সম্পর্ক। দেখা যায় না। ছোঁয়া যায় না। তবে অনুভব করা যায়। এটা কোন বছর, মাস ও দিনের সাথে সম্পৃক্ত নয়।ভালবাসা মানে যাকে ভালবাসা হয় তার প্রতি হৃদয়ের গভীরে লালন করা এক অসীম আকর্ষণ, যে আকর্ষণের তীব্রতায় ভালোবাসার মানুষটির সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল হয়। ভালোবাসা মানে তার অনুসরণ-অনুকরণ করা। তার আদর্শ নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করা। এটাই মূল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা এভাবেই প্রকাশ করেছিলেন। তারা জন্মবার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকীর পেছনে পড়েনি। তাই আসুন আমরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা প্রকাশ করি তাকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ ও আজীবন তার আদর্শ নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ