মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
৭ জেলায় পানিবন্দি দেড় লক্ষাধিক পরিবার, অর্ধশতাধিক নিহত আজও রাজশাহীতে সারাদেশের বাস চলাচল বন্ধ ফের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: প্রধানমন্ত্রী বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার বৈদ্যুতিক বোর্ডে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ

ঈদে মিলাদুন্নবী কি আসলেই ‘ঈদ’?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আব্দুল্লাহ আল মারুফ:

মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ তা'আলা দুটো ঈদ দিয়েছেন। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আযহা। তৃতীয় কোন ঈদের কথা কোরআন-সুন্নায় পাওয়া যায় না।

হাদিস শরীফে এসেছে, আনাস (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করলে দেখলেন, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহিলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কুরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ”। (আবূ দাঊদ, ১১৩৬)

সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়ালকে ঈদে মিলাদুন্নবী বলা ইসলামী শরীয়ার মধ্যে নতুন সংযোজন, যা একটি গর্হিত কাজ। এ ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের ধর্মীয় ব্যাপারে এমন বিষয় উদ্ভাবন করে যা তাতে নেই, তা পরিত্যাজ্য।(মুসলিম-৪৩৪৩)

রবিউল আওয়াল মাসে যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছেন তেমনি এ মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। এ মাস সুখ দুঃখের, নয় শুধু সুখের। এ বিষয়টিও ঈদে মিলাদুন্নবী নামকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটা ভালবাসার পরিচয় নয়। ভালোবাসা হলো হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক। অন্তরের সাথে অন্তরের সম্পর্ক। দেখা যায় না। ছোঁয়া যায় না। তবে অনুভব করা যায়। এটা কোন বছর, মাস ও দিনের সাথে সম্পৃক্ত নয়।ভালবাসা মানে যাকে ভালবাসা হয় তার প্রতি হৃদয়ের গভীরে লালন করা এক অসীম আকর্ষণ, যে আকর্ষণের তীব্রতায় ভালোবাসার মানুষটির সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল হয়। ভালোবাসা মানে তার অনুসরণ-অনুকরণ করা। তার আদর্শ নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করা। এটাই মূল ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা এভাবেই প্রকাশ করেছিলেন। তারা জন্মবার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকীর পেছনে পড়েনি। তাই আসুন আমরাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা প্রকাশ করি তাকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ ও আজীবন তার আদর্শ নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ