মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

 প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে যে দোয়া পড়বেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে মুমিন কার কাছে অভিযোগ করবে? কার কাছে নিজের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ প্রকাশ করবে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের জন্য বিরাট শিক্ষা।

সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনায় হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর হৃদয়ের আকুতি ও আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার ভঙ্গি আল্লাহ তাআলার কাছে এতটাই পছন্দনীয় ছিল যে, তিনি তা কোরআনে কারিমে চিরস্থায়ী করে দিয়েছেন।


প্রচণ্ড কষ্টের সময় ইয়াকুব (আ.)-এর সেই প্রার্থনা
অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুমিন বান্দা ইয়াকবু (আ.)-এর এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন:
আরবি: إِنَّمَآ أَشۡكُواْ بَثِّي وَحُزۡنِيٓ إِلَى ٱللَّهِ
উচ্চারণ: ‘ইন্নামা আশকু বাছ্‌ছি ওয়া হুযনি ইলাল্লাহ।’
অর্থ: ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
হজরত ইউসুফ (আ.) যখন ভাইদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন, তখন হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রচণ্ড আঘাত পেলেন। বহুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সন্তানের বিচ্ছেদ-বেদনা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। ছেলেরা যখন তাকে এ নিয়ে ভর্ৎসনা করল, তখন তিনি নিজের অশান্ত মনের আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন- قَالَ اِنَّمَاۤ اَشۡکُوۡا بَثِّیۡ وَ حُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰهِ وَ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থ: ‘তিনি বললেন, আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

এই আয়াতে মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা হলো- বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং মানুষের কাছে অভিযোগ না করে কেবল আল্লাহর কাছেই মনের কষ্টের কথা বলা। কারণ, মানুষ সমাধান দিতে পারে না, সমাধান কেবল আল্লাহর হাতে।

‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি’ এর ব্যাখ্যা
আয়াতের শেষ অংশে হজরত ইয়াকুব (আ.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ তাফসিরবিদগণের মতে, এই ‘অজানা বিষয়গুলো’ হতে পারে নিম্নরূপ:
১. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমাকে আমার হারানো সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত করবেন।
২. আমি জানি, আল্লাহ তাআলা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনাকারীর দোয়া ফিরিয়ে দেন না।
৩. আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে জানি যে, ইউসুফ এখনো জীবিত।
৪. আমি বিশ্বাস করি, ইউসুফ ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা সত্য হবেই।
৫. বিপদে ধৈর্য ধারণ করার কারণে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন প্রতিদান আশা করি, যা তোমরা কল্পনাও করতে পারছ না। (তাফসিরে ফাতহুল কাদির)

সুতরাং, মুমিন মুসলমানের উচিত গভীর দুঃখ-বেদনায় ভেঙে না পড়ে হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর অনুসরণে আল্লাহর কাছেই নিজেদের ব্যথা-বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরা। চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাই উত্তম প্রশান্তিদানকারী ও সব সমস্যার সমাধানকারী।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ