বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৮ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :

রোজার নিয়ত ও সেহরির দোয়া

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||নাজমুল হাসান||

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত। হিজরতের দেড় বছর পর মহান আল্লাহ তাআলা রোজা ফরজ করেন। তিনি ইরশাদ করেন,
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর— যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” — (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)

রোজা মানুষকে আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি শেখায়। ইখলাসের সঙ্গে রোজা পালন করলে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভ করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” — (বুখারি: ১৯০১; তিরমিজি: ৬৮৩)

রোজার নিয়ত: কী ও কীভাবে?

রোজার জন্য নিয়ত করা ফরজ। তবে নিয়তের অর্থ হলো— মনের ইচ্ছা বা সংকল্প। সেহরির জন্য জাগ্রত হওয়া এবং রোজা রাখার উদ্দেশ্যে পানাহার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তই নিয়তের অন্তর্ভুক্ত। মুখে আরবি বাক্য উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। কেউ মুখে নিয়ত না পড়লেও তার রোজা সহিহ হবে।
— (আল-বাহরুর রায়েক ২/৪৫২; রাদ্দুল মুহতার ৩/৩৩৯)

প্রচলিত আরবি নিয়ত

বাংলাদেশে একটি আরবি নিয়ত ব্যাপকভাবে পড়া হয়। যদিও হাদিসে নির্দিষ্ট এ বাক্যটি বর্ণিত নয়, তবুও কেউ চাইলে পড়তে পারেন।

আরবি:
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّي اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ

উচ্চারণ:
নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদান লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিননি; ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। আপনি তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

ইফতারের দোয়া

ইফতারের সময় পড়ার দোয়া

আরবি:
بِسْمِ اللهِ اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহ। আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া ‘আলা রিযক্বিকা আফতারতু।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।
— (আবু দাউদ: ২৩৫৮)

ইফতারের পরের দোয়া

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইফতারের পর এ দোয়া পড়তেন—

আরবি:
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ:
যাহাবায্-যামাউ; ওয়াবতাল্লাতিল উ’রুকু; ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

অর্থ:
পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং আল্লাহ চাইলে সওয়াব স্থির হলো।
— (আবু দাউদ: ২৩৫৭)

ইফতারের ফজিলত

দিনভর সিয়াম সাধনার পর ইফতারের মুহূর্ত রোজাদারের জন্য আনন্দময়। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন—
“রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে— একটি ইফতারের সময়, অন্যটি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।”
— (তিরমিজি: ৭৬৬)


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ