শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভ‌রিতে সোনার দাম কমলো ৭১১৫ হাজার টাকা মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের লাশ উদ্ধার কাল ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে বয়ান করবেন শায়খ ইলিয়াস গুম্মান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ মাসব্যাপী আরবি ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স হাসনাতের বক্তব্যে মধ্যরাতে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিসের তরবিয়তি মজলিস অনুষ্ঠিত জাতীয় সিরাত সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার নিবন্ধনের সময় বাড়ল ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে ইসলামি বইমেলা অসুস্থ প্রবীণ আলেম মাওলানা সুলাইমান নোমানীর শয্যাপাশে আমিরে মজলিস

খাদিজা (রা.) ও বরকতময় সংসার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

দাদা চেয়ারে বসে পান চিবাচ্ছেন আর মাথা নাড়ছেন। নাতি-নাতনিরা একে-অপরের সাথে টুকিটাকি কথা বলছে। দাদা তাদেরকে থামিয়ে দিয়ে  বললেন, শোনো, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ঘর কোনটা জানো?

একজন নাতি বলল, যেখানে অনেক ধন-সম্পদ আছে!

দাদা হেসে বললেন, না। সবচেয়ে সুন্দর ঘর হলো- যেখানে ভালোবাসা, সম্মান আর আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে। ঠিক এমনই ছিল আমাদের নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মা খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সংসার।

হযরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে ছিলেন জানো? তিনি ছিলেন মক্কার সম্মানিতা ও ধনাঢ্য নারী। তিনি কিন্তু ধন-সম্পদের জন্য নয়, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সততা ও সুন্দর চরিত্রের জন্য তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

বিয়ের পর তাঁদের ঘর ভরে উঠল শান্তি আর ভালোবাসায়। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো শক্ত ভাষায় কথা বলতেন না। আর খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন তাঁর সবচেয়ে আপন বন্ধু, সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।

আল্লাহ তাঁদের ঘরকে সন্তানদের মাধ্যমে বরকত দিয়েছিলেন। সুখ-দুঃখ মিলিয়েই চলছিল তাঁদের জীবন। এরই মধ্যে নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রায়ই মক্কার বাইরে হেরা গুহায় নির্জনে চলে যেতেন। তিনি সত্যের সন্ধান করতেন, মানুষের অবস্থা নিয়ে ভাবতেন।

খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)) কখনো বলতেন না, "এত দিন বাইরে কেন থাকো?" বরং তিনি নিজের হাতে খাবার গুছিয়ে দিতেন, পাহাড়ে পৌঁছে দিতেন এবং স্বামীর জন্য দোয়া করতেন।

দাদা বললেন, ভাবো তো, যদি তিনি বাধা দিতেন, তাহলে কত কষ্ট হতো! কিন্তু একজন ভালো জীবনসঙ্গী সব সময় ভালো কাজে পাশে থাকে। পরে যখন প্রথম ওহি নাজিল হলো, ভীত-সন্ত্রস্ত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরে ফিরে এলেন। তখন সবার আগে যিনি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।

দাদা মৃদু কণ্ঠে বললেন, এই কারণেই ইতিহাসে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) শুধু একজন স্ত্রী নন; তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম আশ্রয়, প্রথম সাহস আর প্রথম সমর্থন।

এবার বল তো এখান থেকে আমরা কী শিখলাম! নাতি-নাতনিরা কোন উত্তর দিতে পারলো না।

দাদা মৃদু হেসে বললেন, আমাদের শিক্ষা হলো- যে সংসার ঈমান, ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতার ওপর গড়ে ওঠে, সেই সংসারই পৃথিবীর সবচেয়ে বরকতময় আশ্রয়।

নাতি-নাতনিরা একসাথে কলকলিয়ে বলে উঠলো, ঠিক দাদু ভাই, ঠিক।

শেষ হলো গল্প। সবাই আসর ছেড়ে ওঠে পড়ল। নাতি-নাতনিরা আগামীকালের গল্পের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ