শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২২ শাওয়াল ১৪৪৭


মুসলিমবিরোধী স্লোগানের জবাবে খেলোয়াড় বললেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্ম দিল স্পেনের ফুটবল সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাতে মার্চ উইন্ডোর সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে মিসরকে আতিথ্য দেয় স্পেন। পুরো ম্যাচে কেউ গোলের দেখা পায়নি। যদিও ৮৪ মিনিটে মিশরীয় মিডফিল্ডার হামদি ফাতহি লাল কার্ড দেখায় তারা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তবুও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেডলক ভাঙতে পারেনি লা ফুয়েন্তের দল। আর এই ম্যাচের প্রথমার্ধেই মুসলিম বিরোধী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।

একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এসপানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিস বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্য রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) লিখেছে– ‘ফুটবলে সকল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আরএফইএফ। একইসঙ্গে স্টেডিয়ামে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণের নিন্দা জানাচ্ছে।’

ইয়ামাল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে “তুমি যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম”—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। আমি জানি, এগুলো প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নয়। তবু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

ইয়ামাল আরও লেখেন, ‘আমি বুঝি, সব সমর্থক এমন নয়। কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয়, তাদের বলব—স্টেডিয়ামের ভেতরে অন্যদের নিয়ে উপহাস করতে ধর্মকে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদী আচরণ।’ ইয়ামাল যোগ করেন, ‘ফুটবল উপভোগ করার জন্য, নিজের দলকে সমর্থন দেওয়ার জন্য। অন্যের পরিচয় বা বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।’

বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মরোক্কান, আর মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির। মরক্কোর আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ছোটবেলা থেকেই তিনি স্পেনের হয়ে খেলছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামাল স্পেন দলের অন্যতম তারকা। ইউরো ২০২৪ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর এবং এ গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও দলের বড় ভরসা তিনি।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানান। তিনি লেখেন, ‘আমরা কোনোভাবেই একটি অসভ্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বৈচিত্র্যময় ও সহনশীল দেশ হিসেবে স্পেনের বাস্তবতাকে কলঙ্কিত করতে দিতে পারি না।’

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ