বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোটে ভাঙন, বদলে গেল সমীকরণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে মুসলিম ভোটব্যাংকে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) একক ও প্রায় নিরঙ্কুশ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত এই ভোট এবার এককভাবে দলটির পক্ষে যায়নি, বরং বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনি ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর—এই তিন মুসলিম অধ্যুষিত জেলায়, যেখানে অনেক আসনে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ থেকে ৬৬ শতাংশের বেশি, সেখানে ভোট বিভাজন এবার স্পষ্টভাবে টিএমসির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলে টিএমসি প্রায় একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল। কিন্তু এবার সেই চিত্র বদলে যায়। মুর্শিদাবাদের মতো জেলায়, যেখানে টিএমসি আগের নির্বাচনে প্রায় সব আসনে জয়ী হয়েছিল, সেখানে এবার দলটির আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআই(এম) ও অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলো কিছু আসন দখল করে নেয়।

মালদা ও উত্তর দিনাজপুরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে টিএমসি তার আগের অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এবার মুসলিম ভোট এককভাবে টিএমসির দিকে না গিয়ে কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং হামায়ুন কবিরের আজুপ (AJUP)-এর মতো ছোট দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনেক আসনে এই দলগুলোর সম্মিলিত ভোট ব্যবধান টিএমসির পরাজয়ের চেয়েও বেশি ছিল বলে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু এলাকায় স্থানীয় ইস্যু ও প্রার্থীভিত্তিক সমীকরণও ভোটের এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২১ সালের মতো এবার মুসলিম ভোটের একক মেরুকরণ না হওয়ায় টিএমসির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিজেপি তুলনামূলকভাবে কিছু আসনে অগ্রগতি অর্জন করে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট বিভাজন শুধু টিএমসির জন্য সতর্ক সংকেতই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্বাচনি রাজনীতিতে মুসলিম ভোট আর এককভাবে কোনো একটি দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না—এই বাস্তবতাকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

জেডএম/

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ