বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


মৃতের সঙ্গেও নির্মম নিষ্ঠুরতা, বাধ্য হয়ে কবর থেকে বাবার লাশ সরালো ফিলিস্তিনি পরিবার


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের চাপে এক ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের বাবার মরদেহ কবর থেকে তুলে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের এ ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও অমানবিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে মোহাম্মদ আসাসা নামে এক ব্যক্তি তার বাবার কবর খুঁড়ে মরদেহ তোলে করে অন্যত্র দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন।

মৃত ব্যক্তির নাম হুসেইন আসাসা। ৮০ বছর বয়সে গত শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। পরে জেনিনের কাছে আসাসা গ্রামের একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই মরদেহ মাটি থেকে তুলে ফেলতে বাধ্য করে দখলদার ইসরায়েলের বসতিস্থাপনকারীরা।

হুসেইনের ছেলে মোহাম্মদ আসাসা জানান, দাফনের আগে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। অতঃপর দাফনের কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা পরিবারটিকে হুমকি দিয়ে মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। তাদের দাবি ছিল, কবরটি এমন জমিতে দেওয়া হয়েছে যা একটি ইসরায়েলি বসতির অংশ।

অথচ, যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ এবং এগুলোকে ইসরায়েলের স্বীকৃত ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয় না।

মোহাম্মদ আসাসা বলেন, তারা বলেছিল, জমিটি বসতি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত এবং এখানে দাফনের অনুমতি নেই। আমরা বলেছিলাম, এটি আমাদের গ্রামের কবরস্থান, কোনো বসতির অংশ নয়। তারপর, বসতিস্থাপনকারীরা নিজেরাই বুলডোজার দিয়ে কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলনের হুমকি দিলে তারা বাধ্য হয়ে তাদের দাবি মেনে নেয়।

ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সেনারা উপস্থিত ছিল; তারাও পরিবারটিকে অন্যত্র দাফনের জন্য চাপ দেয়।

মোহাম্মদ আসাসা বলেন, আমরা গিয়ে দেখি, তারা আগেই কবর খুঁড়ে মরদেহ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এরপর আমরা মরদেহ উত্তোলন করে অন্য একটি কবরস্থানে পুনরায় দাফন করি।

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরিবারটিকে পুনরায় দাফনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেনারা সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা বসতিস্থাপনকারীদের খননযন্ত্র জব্দ করে।

এ ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান অজিত সুংঘে বলেন, এটি ভয়াবহ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি চলমান অমানবিক আচরণের প্রতীক। জীবিত বা মৃত; কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবারও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বসতিস্থাপনকারীরা হামলা চালায়। এতে এক শিশুর ওপর হামলার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছিল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়মুক্তির কারণেই ইসরায়েল পশ্চিম তীরে অবৈধ দখল ও বসতি সম্প্রসারণ আরও জোরদার করছে।

সংস্থাটি অভিযোগ করে, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ভূখণ্ডে ইসরায়েল ‘প্রকাশ্যে ও বেপরোয়াভাবে’ অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : আল জাজিরা

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ