নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ‘অগ্রাধিকার (থ্রাস্ট) খাত’ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের বিএনপির সদস্য জয়নাল আবদিনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের কম শ্রম ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি এবং মাঝারি আকারের জাহাজের বৈশ্বিক চাহিদা কাজে লাগিয়ে এই খাতকে টেকসই রপ্তানি খাতে পরিণত করা সম্ভব। এ জন্য নীতিগত সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি উচ্চ মূলধননির্ভর খাত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে ঋণ, যেমন চার শতাংশ সুদে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় শিপইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে নির্মিত জাহাজে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। তবে মেরিন কেবল, মেরিন পেইন্ট, ফাইবারগ্লাস ও স্টিল প্লেটের মতো উপকরণ দেশেই উৎপাদন করা গেলে এ হার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ডগুলোর জন্য শুল্ক প্রণোদনা ও কর অবকাশ সুবিধার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দিলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওয়েল্ডিং, নৌ-নকশা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও নৌ-স্থাপত্য বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এতে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।
পরিবেশবান্ধব জাহাজের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নীতি সহায়তা ও বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এ খাত থেকে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব হবে।
আইও