বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


পহেলা বৈশাখ: অপসংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ মুসলিম সমাজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

|| মুফতি আশিকুল ইসলাম রহমতনগরী ||

অপসংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ মুসলিম সমাজ। ইসলামি রীতিনীতি ভুলে বিজাতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতি ও উৎসবে মেতে উঠছে ছেলে-বুড়ো সবাই। পহেলা বৈশাখের নামে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, গান ও নৃত্যসহ বহু গুনাহে জড়িয়ে পড়ছে সোৎসাহে। কেউ কি নেই? এই অধপতন রোধ করার? যুবকদের ইমান হেফাজত করার? কেউ নেই এই জাতিকে তাদের গর্বিত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়ার!?

মুসলিম—বীরের জাতি। ইসলামি আদর্শই এ-জাতির আলোকবর্তিকা। ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি ও রীতিনীতি তাদের দিকপাল ও পথের পাথেয়। যে ইসলামের আলোয় আলোকিত পুরো বিশ্ব, সে ইসলাম বুকে ধরে, ভিন-সংস্কৃতির চোরাবালিতে পা ফেলছে, সেচ্ছায়, সউদ্যোগে। এ-যে চরম লজ্জা ও পরিতাপের বিষয়!

প্রিয় পাঠক! পহেলা বৈশাখে যেসব কার্যকলাপ হয় আমাদের দেশজুড়ে, তার কোনোটিই মুসলিমজাতির সংস্কৃতি বা ইসলামি আদর্শ নয়; এসব হিন্দুয়ানি প্রথা ও সংস্কৃতি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে এসব প্রথা-প্রচলন—আমাদের ক্রমশই ঠেলে দিচ্ছে ইমান বিধ্বংসী পথে। মুসলিম হিসেবে আমাদের ইমানের দাবি হলো, বৈশাখের এই পহেলা তারিখে—নাচ-গান, মেলা-বাজি, সব থেকে দূরে থাকা।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

من تشبه بقوم فهو منهم

অর্থাৎ, যে যার অনুসরণ করবে, (রোজ হাশরে) সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে।

হাদিসের ভাষ্যমতে হিন্দুয়ানি প্রথা-প্রচলনের অনুসারীগণ তাদের দলভুক্ত হবে। তাই নিজেদের ইমান হেফাজতের লক্ষ্যে এই সকল প্রোগ্রাম থেকে বিরত থাকুন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরেক হাদিসে বলেছেন—

 ‏"‏ كُلُّكُمْ  رَاعٍ،  وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ  عَنْ  رَعِيَّتِهِ،  الإِمَامُ  رَاعٍ  وَمَسْئُولٌ  عَنْ  رَعِيَّتِهِ،  وَالرَّجُلُ  رَاعٍ  فِي  أَهْلِهِ  وَهْوَ مَسْئُولٌ  عَنْ  رَعِيَّتِهِ،  وَالْمَرْأَةُ  رَاعِيَةٌ  فِي  بَيْتِ  زَوْجِهَا  وَمَسْئُولَةٌ  عَنْ  رَعِيَّتِهَا،  وَالْخَادِمُ  رَاعٍ  فِي  مَالِ  سَيِّدِهِ  وَمَسْئُولٌ  عَنْ  رَعِيَّتِهِ

তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে। ইমাম একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারী তার স্বামী-গৃহের কর্ত্রী, তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। খাদিম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। (সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৯৩)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আমরা প্রত্যেকেই আপন আপন জায়গায় জিম্মাদার, তাই জিজ্ঞাসিত হবো। অতএব, আমরা আমাদের সন্তানদের কোন পথে চালাচ্ছি সে জবাবও আমাদের দিতে হবে। তাই পহেলা বৈশাখের নামে ইমান বিধ্বংসী সকল অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের সন্তানদেরকে বিরত রাখব। নতুবা এই গুনাহের শাস্তি অভিভাবকদেরও বহন করতে হবে।

এমনকি রাষ্ট্র প্রধান প্রতিটি জনগণের অভিভাবক, তাই রাষ্ট্রপক্ষের লোকজনও তাদের জনগণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ইমানদারগণ! নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।

পরিশেষে আহ্বান থাকবে শরিয়া পরিপন্থী এই সকল হিন্দুয়ানী কালচার থেকে আমরা সকলে বেঁচে থাকব ইনশাআল্লাহ।

মহান রব্বে কারিম আমাদের তাওফিক ‍দিন। আমিন

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ