সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

আবাসিক মহিলা মাদরাসা বন্ধের প্রস্তাব ও কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: বিশেষ প্রতিনিধি

|| আমীর ইবনে আহমদ ||

বাংলাদেশে কওমি মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠানিক ধারার বয়স অর্ধ শতাব্দীরও কম। এই অল্পসময়ে মহিলা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বলা যায় ধর্মীয় ভাবাপন্ন মানুষ যারা সহশিক্ষার কবল থেকে নিজ কন্যাসন্তানদের বের করে নিয়ে আসতে তৎপর ছিলেন তারা এই সুযোগটি লুফে নিয়েছেন।

ফলে চট্টগ্রাম ও ঢাকার পরে সারাদেশে ব্যাপকভাবে এই ধারার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। ওয়াকতি তাকাযা পূরণে এর সূচনা হওয়ায় মেয়েদের উপযোগী স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম বিকশিত হতে থাকে।

ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানিকভাবে কোনো কোনো জায়গায় সংস্কার ও সংযোজন হলেও জাতীয়ভাবে মহিলা মাদরাসার মেয়েদের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস প্রণীত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

অধিকাংশ মহিলা মাদরাসা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠলেও এগুলোর সামাজিক অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সুনাগরিক গঠন, একটি আদর্শ প্রজন্ম তৈরির প্রয়াসসহ বহুবিধ সামাজিক অবদান রেখে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

সাম্প্রতিককালে কোনো কোনো মহিলা মাদরাসার অপ্রীতিকর ও ন্যাক্কারজনক কিছু ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা লজ্জাজনক ও অমার্জনীয় অপরাধ।

এইসব অপরাধের সঠিক তদন্ত না হওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় অপরাধীরা আস্কারা পাচ্ছে। একটি উপকারী শিক্ষা আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, কলঙ্কিত করছে।

দায়িত্বশীল উলামায়ে কেরাম ও কওমি অঙ্গনের গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দীনি এই শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি হবে, অভিভাবকগণ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়বেন। এতে করে সমাজের একটি বড় অংশ দীনিশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্রোতে গা ভাসিয়ে কেউ কেউ এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার আওয়াজ তুলছেন, আমরা বলতে চাই মাথা থাকলে ব্যথাও থাকবে, কোনো বুদ্ধিমান মানুষই ব্যাথা উপশমের জন্য মাথা কাটার সিদ্ধান্ত নেবেন না নিশ্চয়ই।

তবে মহিলা মাদরাসাগুলো নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। তালিমি মান, পর্দা ব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি, পরিচালনা ও অভ্যন্তরিণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোপরি অভিজ্ঞ আলেমদের সরাসরি তত্ত্বাবধানকে বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

এগুলো আলেমদেরকেই করতে হবে। দীনের স্বার্থে, দীনি প্রতিষ্ঠান রক্ষার স্বার্থে।  কওমি অঙ্গনের জন্য সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সুখকর হবে না। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হলে অবধারিতভাবেই তা আমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে।

লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, লেখক ও চিন্তক

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ