|| আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী ||
প্রফেসর হযরত মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা। একজন আলোকিত মানুষ। ছিলেন একজন (সহকারী) প্রফেসর। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বুয়েট থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ওয়াইসি কর্তৃক স্থাপিত ও পরিচালিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) বোর্ডবাজার গাজীপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বার্ধক্যজনিত কারণে অপারগ হওয়ার আগ পর্যন্ত আইইউটিতে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণের বেশে অসাধারণ মহান কর্মবীর এই মানুষটি গত ১৭ বরিউল আখির ১৪৪৫ হি. মোতাবেক ২ নভেম্বর ২০২৩ ঈসায়ী বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় ইন্তেকাল করেন।
‘প্রফেসর’ পরিচয় ছাড়িয়ে তিনি আলেম উলামা ও দ্বীনদ্বার মহলে ‘প্রফেসর হজরত’ হয়ে উঠেছিলেন। যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের খাদেম হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে গৌরববোধ করতেন। কালের পরিক্রমায় নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম সাধনায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান এবং তিনি আলেমদের মাখদুম (আলেমদের মুরব্বি) হিসেবে পরিগণিত হন। ইসলামের পরিচ্ছন্ন চেতনাবোধ, প্রাজ্ঞ আলেমদের দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন স্বান্নিধ্য, কুরআন হাদিসের ব্যাপক অধ্যয়ন, কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে বিনির্মাণ করেছিলেন কালের অনন্য ব্যক্তিত্বরূপে। ইসলামের চর্চা-অনুশীলন থেকে দূরে সরে যাওয়া জেনারেল শিক্ষিতদের মাঝে দ্বীনের চেতনাবোধ জাগিয়ে তুলতে তিনি নিরন্তর সাধনা করে গিয়েছেন এবং এক্ষেত্রে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। তাঁর স্বান্নিধ্যে অসংখ্য মানুষ সফলতার রাজপথের সন্ধান পেয়েছেন। তাঁর আলোকবিভায় বিভাময় অনেক পরিবার তাঁর সদাকায়ে জারিয়া হবে নিঃসন্দেহে।
নিভৃতচারী এই মানুষটি লাইমলাইটে না এসে নীরবে নিভৃতে কাজ করতে পছন্দ করতেন। নির্মোহ জীবন যাপনের অনন্য উদাহরণ তিনি। তাঁকে নিয়ে জানতে চান অনেকে। তাঁর জীবনাদর্শ, তাঁর অনুপম চরিত্র মাধুর্য, তাঁর অনন্য চিন্তা চেতনা, উম্মাহর কল্যাণে তাঁর কর্মপন্থা ইত্যাদি বিষয় জেনে তাঁর পদরেখা ধরে চলতে যান এমন মানুষের অভাব নেই।
তাঁর মতো একজন কিংবদন্তির জীবন ও কর্মের টুকরো কথা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি চমৎকার স্মারক গ্রন্থ। শিরোনাম ‘হযরত প্রফেসর মুহাম্মাদ হামিদুর রহমান রহমাতুল্লাহি আলাইহি : স্মৃতি ও অভিব্যক্তি’। প্রকাশক দেশের স্বনামধন্য রুচিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল আশরাফ। দারুণ সব লেখায় সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদের ৮০০ পৃষ্টার অনবদ্য এই সংকলনটি রুচিশীল যেকোনো পাঠককে আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত প্রাজ্ঞজনদের লেখায় সমৃদ্ধ স্মারকগ্রন্থটি পাঠকদের জ্ঞানের পরিধিকে যেমন বিস্তৃত করবে তেমনি উন্নত আদর্শ জীবনবোধে উদ্দীপ্ত করবে নিঃসন্দেহে।
বিশ্ববিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের শাইখুল হাদিস ও মুহতামিম হযরত মাওলানা মুফতী আবুল কাসেম নুমানী দামাত বারাকাতুহুম নিজের দুআ ও অভিব্যক্তিতে লিখেছেন, ‘প্রফেসর সাহেব রহ. এর স্মারক আকারে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি একদিকে যেমন তাঁর মহোত্তম স্মৃতি ও কীর্তিকে অম্লান রাখবে, তেমনি দ্বীনি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে তাঁর সংশ্লিষ্টজন, ভক্ত ও অনুরাগীদের জন্য উৎকৃষ্ট পথনির্দেশক হবে।’
লেখক: মুহাদ্দিস ও খতিব
জেডএম/