নিজস্ব প্রতিবেদক
নেপাল–তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, হিমালয়ের নদী ও পানি ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন ঘটছে, তা বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে মাওলানা মামুনুল হক নেপাল ও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নেপাল–তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হৃদয়বিদারক। মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেসে গেছে। বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
ঘটনার প্রাথমিক কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নেপালের রাসুওয়া অঞ্চলে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ বিপুল পানির ঢল নেমে আসে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উজানে বরফ-পাথরের ধস নদীর প্রবাহ আটকে একটি অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করেছিল। পরে সেই বাঁধ ভেঙে পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত নেমে আসে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হিমালয়ের নদীগুলো কোনো এক দেশের সম্পদ নয়; এসব নদী বহু দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। নেপালের নদীপ্রবাহের পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের বিহারসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিহারে কোশি ও গণ্ডক নদী অববাহিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, হিমালয়ের বরফ, হিমবাহ ও নদী ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শুধু দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতা নয়, উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃতির এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। হিমালয়ে পানি ও প্রকৃতির যে পরিবর্তন শুরু হয়, তার প্রভাব ভারত হয়ে বাংলাদেশের বৃহত্তর নদী অববাহিকাতেও পৌঁছাতে পারে।
পোস্টের শেষাংশে আকস্মিক বন্যায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে মাওলানা মামুনুল হক আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
আরএইচ/