সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার

যত্রতত্র দাওরায়ে হাদিস খোলার হিড়িক ও কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা আ. ব. ম. সাইফুল ইসলাম

প্রত্যেকটি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস খুলতেই হবে? পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই? বাস্তবে তাই তো দেখা যাচ্ছে। যোগ্য শিক্ষক নেই , উপযুক্ত ছাত্র নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। তাও দাওরায়ে হাদিস খুলে দেওয়া হচ্ছে। হয়তো মসজিদেরই ভেতরে। সেখানে থাকা, সেখানে খাওয়া এবং সেখানেই ঘুমানো। বুখারি শরিফ, তিরমিজি শরিফ পড়ানোর উসতায নেই। সমস্যা কী, হায়ার করে নিয়ে আসো! ছাত্ররা ইবারত পড়তে পারে না, তাতে কী? যেমন আছে তাদেরকেই হাদিস পড়িয়ে বছর শেষে দস্তারবন্দী জলসা করো এবং সনদ দিয়ে দাও।

এভাবে যত্রতত্র দাওরায়ে হাদিস খোলার দ্বারা দীন ও ইলমে দীনের অঙ্গনে যে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তা ভাবার দরকার ছিল।

কওমি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি হিসেবে দাওরায়ে হাদিসের যে ঐতিহ্যগত মর্যাদা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, ঢালাওভাবে সর্বত্র এই ক্লাস খুললে তা কতটুকু অক্ষুন্ন থাকে? আগে এই ডিগ্রির যে ইলমি মহিমা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল, মানহীনভাবে সনদ বিতরণের ফলে আজ তার অনেকটাই লোপ পেয়ে গেছে । ইদানীং মসজিদের কেবল মুয়াজ্জিন নয়; খাদেম পদের জন্যও দাওরায়ে হাদিসের শর্ত করা হয়, এমনকি ইফতা'রও সনদ চাওয়া হয়। এসব কিসের ইঙ্গিত বহন করে? সেইসঙ্গে এর যে নৈতিক ও আদর্শিক ক্ষতি তা তো দেখাই যাচ্ছে। বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। এই বহুমুখী ক্ষতির দিকে লক্ষ করে ইতোমধ্যে অনেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অতএব এখনই এ বিষয়ে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। দায়িত্বশীলদের কর্তব্য ঢালাওভাবে সব মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস না খুলে কেবল মানসম্মত মাদরাসাগুলোতে এই স্তর সীমিত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বাকিগুলোতে ইবতেদায়ি ও মুতাওয়াসসিতা স্তরের শিক্ষামান নিশ্চিত করা। সেইসঙ্গে জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে মক্তবভিত্তিক দীনিয়াত শিক্ষাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চালানো। এতে করে আমাদের শিক্ষামান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সমস্ত মানুষ  দীনের কল্যাণময় শিক্ষা দ্বারা উপকৃত হবে বলে আশা রাখা যায়।

লেখক: শায়খুল হাদিস, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ঢাকা

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ